"এতোয়া মুন্ডার কাহিনি" প্রশ্ন উত্তর পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করো
👉 ( এতোয়া মুন্ডার কাহিনি প্রশ্ন উত্তর )
⬛লেখিকা পরিচিতি :
লীলা মজুমদার ১৯০৮ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রমদারঞ্জন রায় বিখ্যাত বই ‘বনের খবর' এর লেখক ছিলেন। লেখিকার জ্যাঠামশাই ছিলেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। লেখিকার শৈশব কেটেছে শিলং পাহাড়ে। ১৯২০ সাল থেকে তিনি কলকাতায় বসবাস শুরু করেন। সাহিত্যচর্চাই ছিল তাঁর সারাজীবনের সঙ্গী। ছোটোদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম বই ‘বদ্যিনাথের বড়ি। তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ—'পদিপিসির বমিবাক্স', ‘হলদে পাখির পালক', 'টং লিং', 'মাকু'। দীর্ঘদিন ছোটোদের জন্য 'সন্দেশ' পত্রিকার তিনি যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন। ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’, ‘আনন্দ পুরস্কার’, ‘ভারতীয় শিশু সাহিত্যের পুরস্কার' প্রভৃতি বহু পুরস্কারে তিনি সম্মানিত হয়েছেন। ‘বুনো হাঁস' গল্পটি তাঁর লেখা 'গল্পসল্প' বই থেকে নেওয়া হয়েছে। ২০০৭ সালে এই বিশিষ্ট লেখিকার জীবনাবসান হয়।
⬛ রচনা পরিচয় :
গল্পটির বিষয়বস্তু বুনো হাঁস ও তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে। গল্পে হিমালয় থেকে উড়ে আসা একটি বুনো হাঁসের আহত হওয়া এবং তাঁর সঙ্গী অপর একটি হাঁসের তার সঙ্গে থাকা এবং জওয়ানদের তাদের সেবা করা, আবার সুস্থ হয়ে সময়মতো সঙ্গীদের সাথে হাঁসদুটির দেশে ফিরে যাওয়াই গল্পটির মূল বিষয়। যেহেতু গল্পটি হাঁস দুটির কয়েক দিনের জীবনযাত্রা নিয়ে লেখা। তাই গল্পটির নামকরণ বুনোহাঁস সঠিক হয়েছে।
⬛ সারসংক্ষেপ :
শীতের শেষে আকাশের দিকে চাইলে দেখা যায় দলে দলে হাঁস সারা শীতকাল গরম দেশে কাটিয়ে আবার উত্তরের দিকে হিমালয় পেরিয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছে। ওরা যে উড়ে যায় তার কোনো শব্দ হয় না কেবল ডানার শোঁ শোঁ শব্দ । পৃথিবীর দক্ষিণের আধখানায় এখানকার গরমের সময় শীত থাকে আর এখানকার শীতের সময় গরম। ওদের বেশি গরমও সয় না আবার বেশি শীতও সয় না। লাডাকের এক নির্জন স্থানে জওয়ানদের একটা ঘাঁটি ছিল।
শীতের শুরুতে দলে দলে হাঁস মাথার উপর দিয়ে উড়ে দক্ষিণে যায় দেখে তাদের মন খারাপ করত। তারা বাড়ির কোনো খবরও পেত না। চিঠিপত্র তেমন এসে পৌঁছোত না। শুধু রেডিয়োতেই যা একটু খবর পেত। একদিন তারা দেখল দুটো হাঁস দল ছেড়ে নেমে এল। পরে দেখা গেল একটা হাঁসের ডানা জখম হয়েছে। জওয়ানরা তাদের মুরগি রাখার খাঁচায় হাঁসটিকে রাখল।
আস্তে আস্তে হাঁসের ডানা সারল। হাঁসটি জওয়ানদের দেওয়া ভুট্টা, ভাত, ফলের কুচি এইসব খাবার খেয়ে সুস্থ হতে লাগল। জওয়ানরা খুব আনন্দের সাথে হাঁসটার দেখাশোনা করত। ক্রমে হাঁসটা সেরে উঠল। তারপর একদিন জওয়ানরা সকালের কাজ সেরে এসে দেখল শীতের শেষে ফিরতি হাঁসেদের সঙ্গে তারাও উড়ে গেছে। ইতিমধ্যে জওয়ানদেরও বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল।
⬛ ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো : প্রতিটা প্রশ্নের মান -1
1. আকাশের দিকে তাকালে তুমি দেখ― (ঘরবাড়ি/গাছপালা/পোকামাকড়/মেঘ-রোদ্দুর)।
উঃ। আকাশের দিকে তাকালে তুমি দেখ মেঘ-রোদ্দুর।
2. হিমালয় ছাড়া ভারতবর্ষের আরও একটি পর্বতের নাম হল – (কিলিমানজারো/আরাবল্লী/আন্দিজ / রকি)।
উঃ। হিমালয় ছাড়া ভারতবর্ষের আরও একটি পর্বতের নাম হল আরাবল্লী।
3. এক রকমের হাঁসের নাম হল – (সোনা / কুনো/কালি/ বালি)- হাঁস।
উঃ। এক রকমের হাঁসের নাম হল বালি হাঁস।
4. পাখির ডানার (বোঁ বোঁ/শন শন/শোঁ শোঁ/ গাঁক গাঁক) শব্দ শোনা যায়।
উঃ। পাখির ডানার শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যায়।
⬛ বাক্য বাড়াও : প্রতিটা প্রশ্নের মান -1
1. একদিন একটা বুনো হাঁস দল ছেড়ে নেমে পড়ল। (কোথায় নেমে পড়ল ?)
উঃ। একদিন একটা বুনো হাঁস দল ছেড়ে নীচে ঝোপের উপর নেমে পড়ল।
2. ওরা গরম দেশে শীত কাটিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে। (কোথায় এবং কখন ফিরে যাচ্ছে?)
উঃ। ওরা গরম দেশে শীত কাটিয়ে শীতের শেষে আবার নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছে।
3.পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করল। (কোথাকার পাহাড় ?)
উঃ। নীচের পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করল।
4. আবার ঝোপঝাপ দেখা গেল। (কেমন ঝোপঝাপ ?
উঃ । আবার সবুজ ঝোপঝাপ দেখা গেল।
5. গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল। (কেমন গাছে?)
উঃ। ন্যাড়া গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল।
▩ বাক্য রচনা করো :
⯀রেডিয়ো, চিঠিপত্র, থরথর, জোয়ান, তাঁবু।⯀
রেডিয়ো:
➣রেডিয়ো আমার দাদু রেডিয়োতে খবর শোনেন।
চিঠিপত্র:
➣চিঠিপত্র—এখন আর কেউ সেভাবে চিঠিপত্র লেখেন না।
থরথর:
➣থরথর—শীতে কুকুরছানাটি থরথর করে কাঁপছিল।
জোয়ান:
➣জোয়ান — যারা সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তারা হলেন জোয়ান বা জওয়ান।
তাঁবু:
➣তাঁবু-সেবার পাহাড়ি অঞ্চলে ঘুরতে গিয়ে আমরা তাঁবুতে ছিলাম।
⬛ এককথায় উত্তর দাও : প্রতিটা প্রশ্নের মান -1
1. লীলা মজুমদারের বাবার নাম কী ?
উঃ। লীলা মজুমদারের বাবার নাম প্রমদারঞ্জন রায়।
2. লীলা মজুমদারের বাবার লেখা বিখ্যাত বইটির নাম কী?
উঃ। লীলা মজুমদারের বাবার লেখা বিখ্যাত বইটির নাম—'বনের খবর ।
3. লীলা মজুমদারের জ্যাঠামশাই কে ছিলেন?
উঃ। লীলা মজুমদারের জ্যাঠামশাই ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
4. লীলা মজুমদারের কোন্ বই থেকে বুনো হাঁস' গল্পটি নেওয়া হয়েছে?
উঃ। লীলা মজুমদারের ‘গল্পসল্প' বই থেকে বুনো হাঁস' গল্পটি নেওয়া হয়েছে।
5. লীলা মজুমদারের লেখা প্রথম ছোটোদের বই কোনটি?
উঃ। লীলা মজুমদারের লেখা প্রথম ছোটোদের বই ‘বদ্যিনাথের বড়ি।
6. লীলা মজুমদারের জন্ম কোন্ শহরে ?
উঃ। লীলা মজুমদারের জন্ম কলকাতা শহরে।
7. তাঁর শৈশব কোথায় কেটেছে?
উঃ। তার শৈশব কেটেছে শিলং পাহাড়ে।
8. ছোটোদের জন্য লেখা তাঁর দুটি বইয়ের নাম লেখো ৷
উঃ। ছোটোদের জন্য তাঁর লেখা দুটি বই হল— 'হলদে পাখির পালক' ও ‘মাকু’।-
১. এখন আকাশের দিকে চাইলে কী দেখা যাবে?
উঃ। আকাশের দিকে চাইলে দেখা যাবে দলে দলে বুনো হাঁস উড়ে চলেছে উত্তর দিকে ।
২. হাঁসেরা কীভাবে সার বেঁধে উড়ে যাচ্ছে?
উঃ। হাঁসেরা তিরের ফলার মতো আকারে সার বেঁধে উড়ে যাচ্ছে।
৩. পাখির ডানার কীরকম শব্দ শোনা যায়?
উঃ । পাখির ডানার শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যায়।
৪. গল্পে হাঁসেরা কোথায় ফিরে যাচ্ছে?
উঃ। গল্পে হাঁসেরা গরম দেশে শীত কাটিয়ে নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছে।
৫. কোনো কোনো হাঁসেরা কোন্ দিক থেকে আসে?
উঃ। কেউ কেউ হিমালয়ের উত্তর দিক থেকে বরফের পাহাড় পেরিয়ে আসে।
৬. অনেক হাঁসেরা কোথায় গিয়ে নামে?
উঃ । অনেক হাঁসেরা ভারতের মাটি পার হয়ে সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে ছোটো ছোটো দ্বীপে গিয়ে নামে।
৭. ছোটো ছোটো দ্বীপে হাঁসেদের কেমন কাটে?
উঃ। ছোটো দ্বীপগুলোতে মানুষের বাস না থাকায় নিরাপদে হাঁসেদের শীত কাটে।
৮. পৃথিবীর দক্ষিণের আধখানায় আমাদের গরমের সময় কোন্ ঋতু থাকে ?
উঃ। পৃথিবীর দক্ষিণের আধখানায় আমাদের গরমের সময় শীত ঋতু থাকে।
৯. জোয়ানদের ঘাঁটি কোথায় ছিল?
উঃ। লাডাকের নির্জন জায়গাতে জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল।
১০. জোয়ানরা কীসের মাধ্যমে খবর পেত?
উঃ । জোয়ানরা রেডিয়োর মাধ্যমে খবর পেত।
১১. কোন্ কাজ জোয়ানদের কাছে আনন্দের ছিল ?
উঃ। হাঁসেদের দেখাশোনা করা জোয়ানদের কাছে আনন্দের কাজ ছিল।
১২. 'বেচারি উড়তে পারছিল না'—কাকে বেচারি বলা হয়েছে?
উঃ। ডানা জখম হওয়া বুনো হাঁসটিকে বেচারি বলা হয়েছে।
১৩. বুনো হাঁসটি কোথায় নেমে কেমন করতে লাগল ?
উঃ। বুনো হাঁসটি ঝোপের ওপর নেমে থরথর করে কাঁপতে লাগল ।
১৪. আহত হাঁসটি প্রথম প্রথম কতদূর উড়তে পারত?
উঃ । আহত হাঁসটি প্রথম প্রথম তাঁবুর ছাদ পর্যন্ত উড়তে পারত।
১৫. জোয়ানরা কখন হাঁসটিকে তাঁবুতে নিয়ে এসেছিল?
উঃ। বরফ পড়তে শুরু করতেই জোয়ানরা গিয়ে হাঁসটিকে তাঁবুতে নিয়ে এসেছিল।
১৬. অন্য হাঁসটি তাঁবুতে কীভাবে এসেছিল ?
উঃ। প্রথমে তেড়ে এলেও পরে অন্য হাঁসটি জোয়ানদের সঙ্গে নিজেই তাঁবুতে গিয়ে ঢুকেছিল।
১৭. সারা শীতকাল হাঁসগুলি কোথায় রইল?
উঃ। সারা শীতকাল হাঁসগুলি জোয়ানদের তাবুতে রইল।
১৮. কোথাকার বরফ গলতে শুরু করল?
উঃ। নীচের পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করল।
১৯. বরফ গলার পর কী দেখা গেল ?
উঃ। বরফ গলার পর আবার সবুজ ঝোপঝাপ দেখা গেল।
২০. ন্যাড়া গাছে কী ধরল?
উঃ । ন্যাড়া গাছে পাতার ও ফুলের কুঁড়ি ধরল।
২১. ‘ওদের বেশি গরমও সয় না আবার বেশি শীতও সয় না'- ওদের বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উঃ। এখানে বুনো হাঁসেদের কথা বলা হয়েছে।
২২. হাঁস দুটি কখন চঞ্চল হয়ে উঠত?
উঃ। মাথার ওপর দিয়ে হাঁসের দল গেলেই হাঁস দুটি চঞ্চল হয়ে উঠত।
২৩. কাদের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল ?
উঃ। জোয়ানদের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল।
২৪. এরপর পাখিরা কোনদিক থেকে আসতে আরম্ভ করল?
উঃ। এরপর পাখিরা দক্ষিণ থেকে উত্তরে আসতে আরম্ভ করল।
২৫. দেশে ফিরে পাখিরা কী করবে?
উঃ। দেশে ফিরে পাখিরা বাসা বাঁধবে, বাচ্চা তুলবে।
২৬. একদিন জোয়ানরা এসে কী দেখল?
উঃ। একদিন জোয়ানরা এসে দেখল হাঁসদুটি উড়ে চলে গেছে।
২৭. জোয়ানদের ঘাঁটি কোথায় ছিল?
উঃ। লাডাকের একটা বরফে ঢাকা নির্জন পাহাড়ে জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল।
২৮. জোয়ানরা কী কাজ করে?
উঃ। জোয়ানরা দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করে, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং দেশকে বাইরের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে।
২৯. বুনো হাঁসেরা জোয়ানদের তাঁবুতে কী খেত?
উঃ। বুনো হাঁসেরা জোয়ানদের তাঁবুতে ভাত, ফলের কুচি, টিনের মাছ, ভুট্টা, তরকারি ইত্যাদি খেত।
৩০. হাঁসেরা আবার কোথায়, কখন ফিরে গেল ?
উঃ। হাঁসেরা আবার শীতের শেষে তাদের নিজেদের দেশে ফিরে গেল।
⬛ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর : প্রতিটা প্রশ্নের মান -2/3
1.দুটো বুনো হাঁস দলছুট হয়েছিল কেন?
উঃ। একটা বুনো হাঁস ডানায় আঘাত পেয়ে নীচে নেমে পড়েছিল এবং তার সঙ্গী আর একটা বুনো হাঁস আহত বুনো হাঁসের পিছন পিছন এসেছিল। তাই বুনো হাঁস দুটো দলছুট হয়েছিল।
2. 'বুনো হাঁস' গল্পে জোয়ানরা কীভাবে দিন কাটাত ?
উঃ। লাডাকে বরফ ঢাকা এক নির্জন জায়গাতে জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল। শীতের শুরুতে যখন বুনো হাঁসের দল দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত, তখন বাড়ির জন্য জোয়ানদের মন কেমন করত। কারণ লাডাকের ওই নির্জন ঘাঁটিতে চিঠিপত্র বিশেষ পৌঁছোত না। শুধু রেডিয়োতেই জোয়ানরা যা কিছু খবর পেত।
3. বুনো হাঁসেরা কোথা থেকে কীভাবে আসে ?
উঃ। বুনো হাঁসের দল কেউ কেউ হিমালয়ের উত্তর দিক থেকে বরফের পাহাড় পেরিয়ে আসে।অনেকে ভারতের মাটি পার হয়ে, সমুদ্রের ওপর দিয়ে উড়ে ছোটো ছোটো দ্বীপে গিয়ে নামে। সেখানে মানুষের বাস না থাকায় তারা নিরাপদে শীত কাটায়।
4. জখম হাঁসটির পাশে তাঁর সঙ্গী হাঁসটি কীভাবে ছিল?
উঃ। জোয়ানদের ঘাঁটির কাছে ডানা জখম হওয়ায় একটি বুনো হাঁস দল ছেড়ে ঝোপের ওপর নেমে থরথর করে কাঁপছিল। তার সঙ্গী আরেকটি বুনো হাঁসও নেমে এসে তার চারদিকে ঘুরে বেড়াতে লাগল। বরফ পড়া শুরু হতে জোয়ানরা যখন জখম হাঁসটিকে তাঁবুতে নিয়ে আসছিল তখন সঙ্গী হাঁসটি প্রথমে তেড়ে এলেও পরে নিজেই ওদের সঙ্গে তাঁবুতে ঢুকেছিল। সারা শীতকাল সঙ্গী হাঁসটি জখম হাঁসটির পাশে থেকে গিয়েছিল, ইচ্ছে করলেই সে উড়ে যেতে পারত কিন্তু সঙ্গীকে ছেড়ে সে যায়নি।
5. সারা শীত কেটে যাবার পর কী হল ?
.উঃ সারা শীতকাল কেটে যাবার পর নীচের পাহাড়ে বরফ গলতে শুরু করল। আবার সবুজ ঝোপঝাড় দেখা গেল। ন্যাড়া গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল। তারপর দক্ষিণ থেকে উত্তরে আবার পাখিরা আসতে আরম্ভ করল।
6. হাঁসদুটি জোয়ানদের কাছে কীভাবে থাকত ?
উঃ। জোয়ানদের তাঁবুতে মুরগি রাখার খালি জায়গা ছিল। বুনো হাঁসদুটি সেখানে থাকত। টিনের মাছ, তরকারি, ভুট্টা, ভাত, ফলের কুচি এইসব খাবার তারা খেত। হাঁসদুটিকে দেখাশুনো করা জোয়ানদের কাছে একটা আনন্দের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
7. “একদিন জোয়ানরা সকালের কাজ সেরে এসে দেখে হাঁসদুটি উড়ে চলে গেছে। জোয়ানদের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল”। —— তোমার পাঠে লীলা মজুমদারের বুনো হাঁস গল্পের এই শেষ দুটি লাইন পড়ে কি তুমি লিখতে পার হাঁসেদের উড়ে যাওয়ার সঙ্গে জোয়ানদের বাড়ি ফেরার মধ্যে কী মিল রয়েছে?
উঃ। হাঁসদুটি জখম হয়ে জোয়ানদের কাছে ছিল। হাঁসেরা তাদের দেশে যেতে চাইলেও পারছিল না। সুস্থ হতেই তারা ফিরে গেল। জোয়ানদেরও কাজ শেষ হয়ে গেলে তারাও নিজের বাড়ি ফিরে যাবে। কাজ সেরে নিজের বাসায় সব প্রাণীই ফিরে যায় এমনকি মানুষও এর থেকে আলাদা নয়। তাই হাঁস ও জোয়ান কাজ শেষে সময় হলে বাড়ি ফিরে যেতে চায়।
8. এমনি করে সারা শীত দেখতে দেখতে কেটে গেল।'— কেমন করে সারা শীতকাল কাটল? এরপর কী ঘটনা ঘটল ?
উঃ। সারা শীতকাল বুনো হাঁস দুটি জোয়ানদের তাঁবুতে থেকে গেল। আস্তে আস্তে আহত বুনো হাঁসের ডানা সারল। হাঁসটি একটু একটু করে উড়তে চেষ্টা করত। আহত হাঁসটি তাবুর ছাদ অবধি উঠে আবার ধুপ করে পড়ে যেত। এভাবেই সারা শীতকাল কাটল। তারপর একদিন জোয়ানরা সকালের কাজ সেরে ফিরে এসে দেখল হাঁস দুটি উড়ে চলে গেছে।
9. কোনো পশু বা পাখির প্রতি তোমার সহমর্মিতার একটা ছোট্ট ঘটনার কথা লেখো।
উঃ। কয়েক বছর আগের কথা। তখন শীতকাল। সকালে আমি কোচিং থেকে পড়ে বাড়ি ফিরছি, এমন সময় বাড়ির কাছে রাস্তায় দেখি একটা ছোট্ট কুকুরছানা কোথা থেকে যেন এসে পড়েছে। আমি সেটিকে বাড়ি নিয়ে এলাম। খিদেতে বা ভয়ে ছানাটি কাঁদছিল। তাকে দুধ খাওয়ালাম। মা বলল, খুঁজে দেখ কোথায় ওর মা আছে, সেখানে দিয়ে আয়। সেদিন সারাদিন ধরে খুঁজে জানতে পারলাম আমাদের পাশের পাড়ায় কুকুরছানাটির দলের অন্যরা থাকে। সেদিন রাত হয়ে যাওয়ায় আর গেলাম না। রাতে বাচ্চাটাকে খাইয়ে, কাপড় মুড়ি দিয়ে দিলাম। পরের দিন সকালে উঠে বাচ্চাটাকে নিয়ে গিয়ে ওর দলের কাছে দিয়ে এলাম। সেখানে কুকুরছানাটির মা-ও ছিল। বাচ্চাটা মায়ের কোল ঘেঁষে বসে দুধ খেতে লাগল। আমিও খুশি হয়ে বাড়ি ফিরে এলাম।
No comments:
Post a Comment