"পাখির কাছে ফুলের কাছে" প্রশ্ন উত্তর পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করো
⬛ লেখিকা পরিচিতি :
খ্যাতনামা লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হলেন বিখ্যাত লেখক মণীশ ঘটক (যুবনাশ্ব)। মহাশ্বেতা দেবী তাঁর কর্মজীবনে লেখালেখি ছাড়া অধ্যাপনা ও সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি বহুদিন বাংলা-বিহার-ওড়িশার অরণ্য এবং সেখানকার মানুষদের জীবনের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। মৃত্যুর পূর্বেও তিনি সেই সব স্থানের আদিবাসীদের মধ্যে কাজ করে গেছেন। তাঁর রচিত জনপ্রিয় উপন্যাসগুলি হল 'ঝাঁসির রানি', 'নটী', ‘অরণ্যের অধিকার’, ‘হাজার চুরাশির মা'।
ছোটোদের জন্য তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থগুলি হল 'গল্পের গরু ন্যাদোশ', 'এককড়ির সাধ', 'নেই নগরের সেই রাজা' ‘বাঘাশিকারী' ইত্যাদি। সমাজসেবামূলক কাজের জন্য তিনি পেয়েছেন 'ম্যাগসেসে পুরস্কার। সাহিত্য রচনার জন্য আকাদেমি পুরস্কার সহ বহু পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন। পাঠ্যাংশটি তাঁর লেখা 'এতোয়া মুন্ডার যুদ্ধজয়' বইয়ের প্রথম পরিচ্ছেদ থেকে নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে মহাশ্বেতা দেবীর জীবনাবসান হয়।
⬛ রচনা পরিচয় :
আলোচ্য রচনাটি এতোয়া নামের আদিবাসী এক বালককে নিয়ে। সে গোরু চরায়, তার দাদুর কাছ থেকে গল্প শোনে। আর রোজ নদীর পাড়ে গিয়ে তার নিজের তৈরি কল্পনার জগতে হারিয়ে যায়। এই রচনায় এতোয়া নামে বাচ্চা ছেলেটিকে কেন্দ্র করেই গোটা গল্পটি আবর্তিত হয়েছে। তাই গল্পটির নাম 'এতোয়া মুন্ডার কাহিনি সার্থক।
⬛ সারসংক্ষেপ :
এতোয়া মুন্ডা একটি ছোটো সাঁওতাল ছেলে। সে থাকে হাতিঘর গ্রামে। মোতিবাবুদের পূর্বপুরুষদের হাতি ছিল, সেই নামে হয়তো গ্রামের নাম। গ্রামটির আদি নাম ছিল শালগেড়িয়া। তার মনে অনেক প্রশ্ন। এতোয়া মুন্ডা তার মনের যত প্রশ্ন সব তার দাদুকে জিজ্ঞেস করে। বুড়ো দাদু যতটা পারে উত্তর দেয়। এতোয়া অল্প লেখাপড়া জানে। তবে তার এই পুরো লেখাপড়াটাই সে শুনে শুনে শিখেছে। সে স্কুলের পাশ দিয়ে যাতায়াতের পথে সাঁওতাল মাস্টারের মুখের গল্প শোনে। সেই শুনে শুনেই সব তার মুখস্থ।
সে তার দাদুর কাছে শোনে সিধু-কানহু-র কথা, বিরসা মুন্ডার কথা, ইংরেজদের সাথে সাঁওতালদের হওয়া সব ভীষণ যুদ্ধের কথা। সেই যুদ্ধে হেরে গিয়ে আদিবাসীদের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যাওয়া আবার পুনরায় বসতি স্থাপনের কথা । সেই বসতিও আবার বাবুদের কাছে বেদখল হয়ে যাবার কথা। এইভাবেই তার দিন কাটে। সে স্কুলের পাশ দিয়ে যেতে যেতে সেই 'যুদ্ধের গল্প শোনে। কিন্তু কোন্ যুদ্ধের গল্প তা এতোয়া জানে না। রবিবার জন্মেছিল বলে তার নাম এতোয়া। এতোয়ার সাথে সবসময় একটা রস্তা থাকে। গোরু চরাতে চরাতে টোকো আম, শুকনো কাঠ, মেটে আলু, পুকুর পাড় থেকে তোলা শাক সব নিজের বস্তায় ভরে নেয়। তারপর সুবর্ণরেখাতে বাঁশের বোনা জালটাকে পাতে। তারপর কী খাবে, কী করবে এই সব ভাবতে ভাবতে খিদের কথাই ভুলে যায়।
এতোয়া ভাবে লোকেদের বলা যুদ্ধের কথা, ভজন ভুক্তার বলা এক শূরবীর আদিবাসী রাজার কথা। যার রাজ্যপাট চলে যাওয়ায় সে ঘণ্টা আর তির ধনুক নিয়ে ভুলং নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল। সে সেখানে অপেক্ষা করে আছে আবার তার রাজত্ব উদ্ধারের আশায়। তাঁর গর্জন আর ঘণ্টার আওয়াজ এখনও ঝড় বাদলের রাতে শোনা যায়। এই ভজন ভুক্তাকে এতোয়া বহুবার হাট থেকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে। ভজন ভুক্তা এতোয়াকে বলে স্কুলে যেতে, লেখাপড়া করতে।
⬛ ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো : প্রতিটা প্রশ্নের মান -1
1. গ্রামটার নাম হল (হাতিঘর / হাতিবাড়ি / হাতিয়াড়া / হাতিগাড়া)।
উঃ। গ্রামটার নাম হল হাতিঘর।
2.হাতিশালাটা ছিল (মাটির / পাথরের / ইটের/ দরমার)।
উঃ। হাতিশালাটা ছিল পাথরের।
3.এখন ওটা হয়েছে (থাকার ঘর / রান্নাঘর / গোলাঘর / ভাঁড়ার ঘর)।
উঃ। এখন ওটা হয়েছে গোলাঘর।
4. একসময় এটা ছিল (বাঙালি / আদিবাসী / মুসলিম/ খ্রিস্টান) গ্রাম।
উঃ। একসময় এটা ছিল আদিবাসী গ্রাম।
5.আকাশ আঁধার হয়ে যায় (মেঘে মেঘে / তিরে-তিরে / বৃষ্টিতে / ধোঁয়াতে)।
উঃ। আকাশ আঁধার হয়ে যায় তিরে তিরে।
6.ছোট্ট এতোয়া হল মোতিবাবুর (বাগাল / চাকর / ক্রীতদাস / পোষ্য)।
উঃ। ছোট্ট এতোয়া হল মোতিবাবুর বাগাল।
7. ভুলং নদী খানিক বাদেই মিশেছে (গঙ্গায় / পদ্মায় / সমুদ্রে / সুবর্ণরেখায়)।
উঃ। ভুলং নদী খানিক বাদেই মিশেছে সুবর্ণরেখায়।
8.এতোয়াকে দেখলে মনে হয় দুরন্ত এক বাচ্চা (হাতি / ঘোড়া / বাঘ / হরিণ)।
উঃ। এতোয়াকে দেখলে মনে হয় দুরন্ত এক বাচ্চা ঘোড়া।
9. শূরবীর উঠে আসবে (বাঘে / ঘোড়ায় / হাতিতে / মোষে) চেপে।
উঃ। শূরবীর উঠে আসবে হাতিতে চেপে।
10. ভজন ভূক্তাদের সময় পাঠশালা ছিল (চার / তিন / ছয় / সাত) মাইল দূরে।
উঃ। ভজন ভুক্তাদের সময় পাঠশালা ছিল চার মাইল দূরে।
⬛অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর : প্রতিটা প্রশ্নের মান -1
১. ‘নামটি এতোয়া ..... - এতোয়া নামটি কে কেন দিয়েছিল?
উঃ। এতোয়া রবিবার জন্মেছিল বলে তার ঠাকুরদা মঙ্গল মুন্ডা নামটি দিয়েছিল।
২. এতোয়া মুন্ডাদের গ্রামটির নাম কী?
উঃ। এতোয়া মুন্ডাদের গ্রামটির নাম হাতিঘর।
৩. ‘এতোয়া' শব্দের অর্থ কী ?
উঃ। এতোয়া শব্দের অর্থ রবিবার।
৪. এতোয়ার গ্রামের জমিদার কে ছিলেন?
উঃ। এতোয়ার গ্রামের জমিদার ছিলেন মোতিবাবু।
৫. গ্রামটির আগের নাম কী ছিল?
উঃ। গ্রামটির আগের নাম ছিল শালগেড়িয়া।
৬. সাঁওতাল ও মুন্ডাদের বিদ্রোহকে কী বলে ?
উঃ। সাঁওতাল ও মুন্ডাদের বিদ্রোহকে বলে 'হুল' ও 'উলগুলান’।
৭. সাঁওতালদের নিয়ে কারা যুদ্ধে নেমেছিল?
উঃ। সাঁওতালদের নিয়ে সিধু-কানহু যুদ্ধে নেমেছিল।
৮. মুন্ডাদের নিয়ে কে যুদ্ধে নেমেছিলেন?
উঃ। মুন্ডাদের নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিলেন বিরসা মুন্ডা ।
৯. সাঁওতাল ও মুন্ডারা এখন কোথায় কোথায় ছড়িয়ে পড়েছে?
উঃ। সাঁওতাল ও মুন্ডারা এখন বাংলা, বিহার, ওড়িশা, অসম ইত্যাদি বহু জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।
১০. লেখিকা কাদের বনের সন্তান বলেছেন?
উঃ। লেখিকা লোধাদের বনের সন্তান বলেছেন।
১১. মুন্ডারা কোন্ নদী পেরিয়ে এসে বসতি স্থাপন করে?
উঃ। মুন্ডারা সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে এসে বসতি স্থাপন করে।
১২. এ রাজ্যে মুন্ডা, সাঁওতাল, লোধারা কোন্ ভাষায় কথা বলে ?
উঃ। এ রাজ্যে মুন্ডা, সাঁওতাল, লোধারা সবাই বাংলাও বলে আবার নিজেদের ভাষাতেও কথা বলে।
১৩. এখন যাকে ডুলং নদী বলা হয় মুন্ডারা আগে তাকে কী বলত ?
উঃ। এখন যাকে ডুলং নদী বলা হয় মুন্ডারা আগে তাকে দরংগাড়া বলত।
১৪. ভুলং নদী কোথায় গিয়ে মিশেছে?
উঃ। ডুলং নদী সুবর্ণরেখায় গিয়ে মিশেছে।
১৫. এতোয়া কীভাবে সুবর্ণরেখা নদী পেরোয়?
উঃ। এতোয়া মোষের পিঠে চেপে সুবর্ণরেখা নদী পেরোয়।
১৬. গাঁয়ের বুড়ো সর্দার মঙ্গল কী দিয়ে বছর হিসেব করে ?
উঃ। বুড়ো সর্দার মঙ্গল চাঁদ দিয়ে বছর হিসেব করে।
১৭. কোন্ কোন্ গাছের পাঁচিল শালগেড়িয়া গ্রামকে পাহারা দিত?
উঃ। সাবু আর শালগাছের পাঁচিল শালগেড়িয়া গ্রামকে পাহারা দিত।
১৮. হাতিঘর পৌঁছে শালগাছটির গোড়ায় কী দেখা যায় ?
উঃ। শালগাছটির গোড়ায় মাটির তৈরি মস্ত হাতি ও মস্ত ঘোড়া দেখা যায়।
১৯. ‘গড়াম' কথাটির অর্থ কী ?
উঃ। ‘গড়াম' কথাটির অর্থ গ্রামদেবতা।
২০. বাঘ যাতে গোরু না খায় তার জন্য কোন্ দেবতার পুজো দেওয়া হয় ?
উঃ। তার জন্য বাঘুৎ দেবতার পুজো দেওয়া হয়।
২১. স্কুলে কে গল্প বলে ?
উঃ। স্কুলে সাঁওতাল মাস্টার গল্প বলে।
২২. এতোয়া যাত্রা দেখে কী জেনে ফেলেছে?
উঃ। এতোয়া রোহিনী গ্রামে যাত্রা দেখে রামায়ণ ও মহাভারতের কথা জেনে ফেলেছে
২৩. বম্বে রোডে যত বাস, ট্রাক চলে, সবাই কোথায় প্রণামি দেয় ?
উঃ। সবাই গুপ্তমণির মন্দিরে প্রণামি দেয়।
২৪. লোকে সুবর্ণরেখার জলে এখনও কী পাওয়া যায় বলে?
উঃ। লোকে বলে সুবর্ণরেখার জলে এখনও নাকি সোনার রেণু পাওয়া যায়।
২৫. কে কী নিয়ে ডুলং নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল?
উঃ। আদিবাসী রাজা শূরবীর তামার ঘণ্টা, আর তির ধনুক নিয়ে ডুলং নদীতে ঝাপ দিয়েছিল।
২৬. শূরবীর কে ছিলেন?
উঃ। শূরবীর ছিলেন এক আদিবাসী রাজা।
২৭. হাটে বসে কে গল্প বলে?
উঃ। হাটে বসে অন্ধ ভজন ভুক্তা গল্প বলে ।
২৮. ১৮৫৭-৫৮ সালে কোন্ যুদ্ধ হয়েছিল জেনে লেখো।
উঃ। ১৮৫৭-৫৮ সালে সিপাহী বিদ্রোহ হয়েছিল।
২৯. আদিবাসীরা জঙ্গল থেকে কী কী পায় ?
উঃ। আদিবাসীরা জঙ্গল থেকে কন্দ, মূল, ফল, পাতা, জ্বালানি এবং খরগোশ, শজারু, পাখি প্রভৃতি পায়।
৩০. ভজন ভুক্তাদের ছেলেবেলায় পাঠশালা কত দূরে ছিল?
উঃ। ভজন ভুক্তাদের ছেলেবেলায় পাঠশালা চার মাইল দূরে ছিল।
৩১. শালগেড়িয়া গ্রামের আদিবাসীরা হেরে গিয়েছিল কেন?
উঃ। তারা লেখাপড়া জানত না। সরকারের আইনকানুনও জানত না। তাই তারা হেরে গিয়েছিল।
৩১. মহাশ্বেতা দেবী কী কী পুরস্কার পেয়েছেন ?
উঃ। সমাজসেবামূলক কাজের জন্য মহাশ্বেতা দেবী ম্যাগসেসে পুরস্কার পেয়েছেন। সাহিত্য রচনার জন্য তিনি আকাদেমি সহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন।
⬛ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর : প্রতিটা প্রশ্নের মান -2/3
১. 'এতোয়াকে দেখলে মনে হয়.. - এতোয়াকে কেমন দেখতে তার বর্ণনা দাও।
উঃ। এতোয়া একটি আদিবাসী ছেলে। বয়স দশ বছর। মাথায় খুব ঝাঁকড়া লালচে চুল। চোখদুটি জ্বলজ্বলে আর পারালো। সবসময় তার পরনে থাকে একটা খাকি হাফপ্যান্ট। এতোয়াকে দেখলে মনে হয় সে যেন দুরন্ত এক বাচ্চা ঘোড়া । এখুনি লাফিয়ে উঠে দৌড়ে যাবে।
২. গুপ্তমণি মন্দিরের বর্ণনা দাও।
উঃ । হাওড়া থেকে খড়্গপুর গিয়ে বাসে চেপে গুপ্তমণি মন্দিরে পৌঁছোনো যায়। এটি দেবী বড়াম মায়ের মন্দির। তিনি সবাইকে রক্ষা করেন। মন্দিরে লোধা পুরোহিত পূজা করেন। বম্বে রোডে যত বাস ট্রাক চলে সবাই এই মন্দিরে প্রণামি দেয়।
৩. গ্রামের লোধা আদিবাসীরা কী কী করে?
উঃ। গ্রামের লোধা আদিবাসীরা বনজীবী মানুষ। তারা শিকার করে, বাঘ যাতে গোরু না খায় তার জন্য বাঘুৎ দেবতার পূজা করে। যিনি রক্ষা করেন সেই বড়াম মায়ের পূজা দেয়।
৭. ভজন ভুক্তা কে? তার বড়ো দুঃখ কেন ?
উঃ। লোধা বুড়ো ভজন ভুক্তা অন্ধ মানুষ। সে হাটবারে হাটতলায় গল্প বলে, গান গায়। তার দুঃখ গ্রামের আদিবাসী ছেলেরা বাবুর বাড়ি গাই চরায় বন থেকে কাঠ আনে। কিন্তু এখন গ্রামে স্কুল থাকতেও তারা স্কুলে যায় না । সে চায় গ্রামের আদিবাসী ছেলেরা লেখাপড়া শিখুক।
৮. আমাদের আদিপুরুষরা দেশ ছাড়ল'— কারা কেন দেশ ছাড়ল? এখন তারা কোথায় রয়েছে?
উঃ। সিধু-কানু যখন সাঁওতালদের নিয়ে যুদ্ধে নামল তখন সেই যুদ্ধে সাহেবরা জিতে যাওয়ায় সাঁওতালরা দেশ ছেড়ে এদিক সেদিকে পালিয়ে বাঁচল। তারও অনেক বছর পর বিরসা মুন্ডা মুন্ডাদের নিয়ে সাহেবদের উৎখাত করবে বলে লড়াই করল। এই লড়াইতে মুন্ডা ও সাঁওতালরা হেরে গেল। তারপর তারা বাংলা, ওড়িশা, বিহার, অসম সব জায়গায় বন কেটে বসতি করল। এখন মুন্ডা ও সাঁওতালরা সব দেশেই রয়েছে।
৯. ‘এখন ও রাজা’—এখানে কার কথা বলা হয়েছে? সে রাজা হয়ে নিজের মনে কী বলে আর কী কী ভাবে?
উঃ। এখানে এতোয়ার কথা বলা হয়েছে। সে সুবর্ণরেখার চরের মাঝে বসে নিজেকে নদী, আকাশ ও চরের রাজা মনে করে। নিজের মনেই সে বলে মাছ পেলে মাছ খাব, শাক তো খাবই। মুদি দাদা যদি তার পাওয়া মেটে আলুটা নিয়ে নুন, তেল মশলা দেয় তাকেই সে আলুটা দেবে। নয়তো সে নিজে আর দাদু মিলে খাবে। কী কী খাবে তা ভাবতে গিয়ে সে খিদে ভুলে যায়। নদীর জল, বাঁশবন, বুনো ফুল, আকাশ সকলকে ডেকে ডেকে এক ভীষণ যুদ্ধের কথা বলে।
১০. আদিবাসীরা কোন্ ভাষায় কথা বলে? তারা কীভাবে নিজেদের নাম রাখে?
উঃ। আমাদের রাজ্যে মুন্ডা, সাঁওতাল, লোধা সবাই বাংলা ভাষায় কথা বলে আবার নিজেদের ভাষাও বলে। আদিবাসীরা নিজেদের ইচ্ছেমতন জন্মবারের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখে। যেমন সোমবারে জন্মালে সোমরা, সোমাই এমনি কোনো নাম। আবার কখনও বা তারা বাংলা নামও রাখে।
১. ‘সেও এক ভীষণ যুদ্ধ'— কোন্ যুদ্ধের কথা এখানে বলা হয়েছে?
উঃ। ১৮৫৭-৫৮ সালে সিধু-কানহু সাঁওতালদের নিয়ে ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছিল। এখানে সেই যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে।
২. গাঁয়ের নাম হাতিঘর হল কেন?
উঃ। গাঁয়ের জমিদার মোতিবাবুর পূর্বপুরুষেরা হাতি পুষতেন। তাদের ছিল পাথর দিয়ে তৈরি হাতিশালা। এক সময়ে জমিদারেরা আদিবাসীদের সব কিছু নিয়ে নিল। তারাই গাঁয়ের নাম দিয়েছিলেন হাতিঘর।
৩. ভজন ভুক্তা এতোয়াকে কী বলত?
উঃ। ভজন ভুক্তা এতোয়াকে বলত শূরবীর এক আদিবাসী রাজা ছিল। বাইরের মানুষ এসে যখন তাঁর রাজ্যপাট কেড়ে নিল, তখন তামার ঘণ্টা আর তির ধনুক নিয়ে সে ভুলং নদীতে ঝাঁপ দিল। যদি কেউ ভক্তিভরে তাকে ডাকতে পারে, রাজা তখনই ঘণ্টা বাজাবে ঢং ঢং। তারপর হাতি চেপে ধনুক হাতে রাজা উঠে আসবে জল থেকে। বাঘের মতো গর্জনে আকাশটা কাঁপিয়ে রাজা বলে আমার রাজ্য আমার হবে, মাটি ঢেকে দেব জঙ্গলে আর জঙ্গলের প্রাণী, জঙ্গলের মানুষ দিয়ে। বলে ঘণ্টা বাজায়, আর ঘণ্টা বাজায়। এই সব গল্প সে এতোয়াকে বলত।
৪. হাতিঘর-এ কেমন ভাবে যাবে সংক্ষেপে লেখো।
উঃ। হাওড়া থেকে খড়্গপুর, তারপর বাসে নামতে হবে গুপ্তমণি মন্দিরের সামনে। গুপ্তমণি থেকে রোহিণী যাবার বাস আছে। বাস যদি না পাওয়া যায় তাহলে দক্ষিণ-পশ্চিমে সাত-আট মাইল হেঁটে ছোট্ট একটি নদী পেরোতে হবে। তারপর ছোটো ছোটো আদিবাসী গ্রাম। তারপর মস্ত গ্রাম রোহিণী পেরিয়ে দক্ষিণে এগিয়ে ভুলং নদী, সেটাই হাতিঘর।
৫. এতোয়া নামটি কেন হয়েছিল ?
উঃ। আদিবাসীদের যার ইচ্ছে, সে জন্মবারের সঙ্গে মিলিয়ে সন্তানের নাম রাখে। রবিবারে জন্মেছিল তাই নাম এতোয়া ৷
৬. এতোয়ার রোজকার কাজের বর্ণনা দাও।
উঃ। এতোয়া গ্রামের জমিদার মোতিবাবুর বাগাল বা রাখাল ওর কাজ গোরু ছাগল চরানো। হাটের দোকানির দোকান ঝাঁটপাট দিয়ে এতোয়া একটি বস্তা চেয়ে নিয়ে আমবাগানে বাবুর গোরু চরাতে চরাতে কুড়িয়ে নেয় টোকো আম, শুকনো কাঠ। মেটে আলু খুঁড়ে বের করে মাটি থেকে, মজা পুকুরের পাড় থেকে তোলে শাক। তারপর গোরু নিয়ে সে ভুলং নদী পেরিয়ে নদীর চরে ওঠে। ঘন সবুজ ঘাসবনে গোরু মোষ ছেড়ে দিয়ে দৌড়ায় সুবর্ণরেখায় চড়ায়। বাঁশ দিয়ে বোনা জালটা সেখানে পাতে, আর মনে মনে নিজেকে রাজা ভাবতে থাকে।
৭. ‘এখন গ্রামে ইস্কুল, তবু’—বক্তা কে? আগে কী ছিল?
উঃ। বক্তা ভজন ভুক্তা। আগে গ্রামে পাঠশালা ছিল। ভজন ভুক্তার সময়কালে জঙ্গলের পথ দিয়ে চার মাইল গেলে তবে পাঠশালায় যাওয়া যেত।
No comments:
Post a Comment