❐ নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
1. প্রবীণ কে ছিল?
উত্তরঃ গবিন সিংয়ের ঘোড়ার নাম ছিল প্রবীণ।
2. প্রবীণ চিহহি-হি করে চেঁচিয়ে উঠে কী বলে?
উত্তরঃ হট যাও! হট যাও!
3. নবীন অনেকদিন ধরেই লজ্জিত ছিল কেন?
উত্তরঃ তার ঘোড়া প্রবীণ-এরপেটের পিলের জন্য।
4. নবীনের কোথায় বিয়ে হয়েছিল?
উত্তরঃ কামাৎপুর-পুণ্যার ছত্রীদের বাড়িতে।
5. পরশুরাম সিংজির ওজন কত ছিল?
উত্তরঃ তিনমন ওজন ছিল।
❐ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি:
1. নবীন সিং-এর পিতার নাম কী?
উত্তরঃ গবিন সিং।
2. প্রবীণ কার নাম?
উত্তরঃ গবিন সিংয়ের ঘোড়ার নাম।
3. প্রবীণের চেহারার বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ পেটমোটা একটা বিশ্রী প্রকৃতির ঘোড়া।
❐ রচনাধর্মী প্রশ্নাবলি:
1. প্রবীণের মৃত্যু কীভাবে হল তার বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ নবীনের বাপের শ্রাদ্ধ হয়ে খাবার পর সে একদিন হাটে যায়। ধান, চাল ছালায় ভর্তি করে প্রবীণের পিঠে চাপিয়ে দিয়ে নিজে বড়ো ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে কারবারের মজুর টাকে প্রবীণের দড়ি ধরে টেনে নিয়ে যেতে বলল। বড়ো ঘোড়াটি টগবগ করে বেরিয়ে গেল তাকে দেখে প্রবীণও প্রানপণে ছুটতে লাগল। তার এমন ছোটা আগে কেই কোনোদিন দেখেনি। সেও জীবনে কোনোদিন এমন ছোটা ছোটেনি। সবাই হাত তালি দিয়ে বাহবা দিচ্ছিল। সামনেই সাঁকেটো বাজিজেতার চিহ্নিত স্থানের মত দাঁড়িয়ে ছিল। প্রবীণ বড়ো ঘোড়ার আগেই সেখানে পৌঁছোয়। তার পরেইযে উচু সাঁকোর পাশের ভাঙারেলিং দিয়ে ঝাঁপ দিল বিশ হাত নিচে নুড়ি পাথর ভরা নদীর গর্ভে। সবাই দেখল প্রবীণ বাজী জিতে ইচ্ছে করে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
2. 'নবীন মনে মনে ভীষন প্রতিজ্ঞ করল'- কোন্ পরিস্থিতিতে নবীন প্রতিজ্ঞা করেছিল নবীনতার প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছিল কী ভাবে?
উত্তরঃ বাপের কথা মত নবীন প্রবীণের পিঠে চড়ে শ্বশুর বাড়ি যায়। প্রবীণকে দেখে তার শালারা ঠাট্টা তামাসা করতে থাকে, তাতে নবীন লজ্জিত হয়। তা সত্ত্বেও নবীন তার শালাকে বলে একবার চেপে দেখোনা কেমন শির-পা করে লাপিয়ে ওঠে। নবীনের কথা শেষ না হতেই কাম্যাৎপুরের ছত্রীদের তিনমনি ওজনের পরশুরাম সিংজি দাওয়ার ওপর থেকে ঝপ করে প্রায় ঝাঁপিয়ে আচমকা প্রবীণের পিঠে-চেপে বসল। সঙ্গে সঙ্গে কোঁক করে একটা শব্দ করে প্রবীণ পিছনের পা দুটো দুমড়ে বসে গেল। যাদেখে সকলে হো হো করে হেসে উঠল। নবীনের মাথা হেঠ হল। ঠিক এই সময় নবীনের বড়ো শালা নিজেদের বড়ো ঘোড়ায় চড়ে সেখানে হাজীর হলেন। প্রবীণ বড়ো ঘোড়াটিকে দেখে খেপে গেল, চিৎকার করে সামনের পা তুলে তাকে আক্রমণ করল। তারপর বড়োঘোড়াটি পিছনের জোড়া পায়ে লাথি মারতেই প্রবীণ চিৎ হয়ে উলটে মাটিতে পড়ে গেল। নবীনের মাথা এতে আরও হেট হল। রাতে নবীনের স্ত্রী বলল তুমি আর ওই ছাগলটায় চেপে এসো না, এতে নবীন মনে মনে ভীষণ প্রতিজ্ঞা করল।
বাড়ি ফেরার সময় নবীন আর তার ঘোড়ায় চাপল না। লাগামের দড়ি ধরে টেনে হেঁটেই ফিরল। শালারা তাতে চড়তে বললে নবীন বলল বড়ো ঘোড়া কিনে তবে চড়ে আসবে। তারপর নবীন রোজগার শুরু করে। হাটে-হাটে গ্রামে গ্রামে সে ধান-চাল কেনা বেচা করতে আরম্ভ করল। বছর দু-য়েক পর একদিন সে তার শালার সেই বড়ো ঘোড়াটিতে চেপে বাড়ি এসে বাবাকে বললে আমি এটা কিনেছি।
No comments:
Post a Comment