কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণি বাংলা | নবম শ্রেনীর বাংলা প্রশ্ন উত্তর | Class 9th Bangla Kolingodesher Jhorbreeshti Question and Answers - Psycho Principal

Fresh Topics

Tuesday, 28 January 2025

কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণি বাংলা | নবম শ্রেনীর বাংলা প্রশ্ন উত্তর | Class 9th Bangla Kolingodesher Jhorbreeshti Question and Answers

 

কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি 
প্রশ্ন উত্তর



❐ ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো:


1. 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতাটি নেওয়া হয়েছে-

i.নূতনমঙ্গল থেকে।

ii.চন্ডীমঙ্গল থেকে।

iii.ম্বিকামঙ্গল থেকে ।

iv.সব কটিই ঠিক।

উত্তরঃ  চন্ডীমঙ্গল থেকে


2. কবি মুকুন্দ নিজের উপাধি হিসেবে ব্যবহার করতেন-

i. কবিসুন্দর।

ii. কবিকঙ্কণ।

iii. বিদ্যাসুন্দর।

iv.রায়গুণাকর।

উত্তরঃ  কবিকঙ্কণ


3. চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল, কারণ-

i. সূর্য অস্ত গেছে।

ii.ধুলোয় ভরে গেছে।

iii. মেঘে ঢেকে গেছে।

iv. গ্রহণ লেগেছে।

উত্তরঃ  মেঘে ঢেকে গেছে


4. 'দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।'-এখানে যে ভাবনাটি প্রকাশ পেয়েছে, তা হল-

i. সূর্য ডুবে যাওয়ার জন্য কেউ কারো অঙ্গ দেখতে পায় না।

ii. মেঘ করার জন্য চারিদিক অন্ধকার হওয়ায় কেউ কারো অঙ্গ দেখতে পায় না।

iii. সন্ধে হয়ে যাওয়ার জন্য কেউ কারো অঙ্গ দেখতে পায় না।

iv.কোনোটিই নয়।

উত্তরঃ  মেঘ করার জন্য চারিদিক অন্ধকার হওয়ায় কেউ কারো অঙ্গ দেখতে পায় না


5. ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে পূরণ) ।' (শূন্যস্থান

i. বরিষণ।

ii. মেঘ।

iii.  চিকুর।

iv. জলদ।

উত্তরঃ  চিকুর


6. 'ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।'-ঈশান বলতে বোঝায়-

i. দক্ষিণ-পূর্ব কোণকে।

ii. উত্তর-দক্ষিণ কোণকে।

iii. দক্ষিণ-পশ্চিম কোণকে।

iv. উত্তর-পূর্ব কোণকে।

উত্তরঃ  উত্তর-পূর্ব কোণকে


7. 'উত্তর পবনে মেঘ ডাকে দূর দূর'। -এখানে 'উত্তর পবনে' বলতে বোঝানো হয়েছে-

i. উত্তুরে বাতাসকে।

ii. . উত্তর দিককে।

iii. হনুমানকে।

iv. উত্তরের জানালাকে।

উত্তরঃ  উত্তুরে বাতাসকে


8.'নিমিয়েকে জোড়ে মেঘ গগন-মণ্ডল।'-এখানে 'নিমিষেকে' বলতে বোঝানো হয়েছে-

i. নিকষ কালো অন্ধকার।

ii.  এক মুহূর্তে।

iii. ধীরে ধীরে।

iv. কোনোটিই নয়।

উত্তরঃ এক মুহূর্তে


9. কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী দামুন্যা ত্যাগ করে কোন জমিদারের আশ্রয় পান?

i. মানিক রায়।

ii. রঘুনাথ রায়।

iii.বাঁকুড়া রায়।

iv. সুকুমার রায়।

উত্তরঃ  বাঁকুড়া রায়


10. 'চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল।'-ধ্বনি পরিবর্তনের রীতি অনুসারে 'বরিষে' হল-

i. সমীভবনের দৃষ্টান্ত।

ii. স্বরাগমের দৃষ্টান্ত।

iii. স্বরভক্তির দৃষ্টান্ত।

iv. স্বরলোপের দৃষ্টান্ত।

উত্তরঃ স্বরভক্তির দৃষ্টান্ত


11.  'প্রলয় ---- প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।' 

i. বুঝিয়া।

ii. গণিয়া।

iii. মানিয়া

iv. ভাবিয়া।

উত্তরঃ  গণিয়া


12. মেঘ কোথায় উচ্চনাদে ডাকে?

i. গগনমণ্ডলে।

ii. অট্টালিকা 'পরে।

iii. গুজরাটে।

iv. কলিঙ্গে।

উত্তরঃ  গগনমণ্ডলে


13. 'হুড় ছুঁড় দুড় দুড় বহে ঘন ঝড়ে'-'হুড় হুড় দুড় দুড়' হল-

i.  শব্দদ্বৈতের দৃষ্টান্ত।

ii.  সংযোজক অব্যয়ের দৃষ্টান্ত।

iii.ধ্বন্যাত্মক শব্দের দৃষ্টান্ত।

iv. কোনোটিই নয়।

উত্তরঃ  ধ্বন্যাত্মক শব্দের দৃষ্টান্ত


14. 'বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।'- এখানে 'রড়' শব্দের অর্থ-

i. হাঁটা।

ii. বসা।

iii. চলা।

iv. দৌড়ানো।

উত্তরঃ দৌড়ানো


15. 'জলে মহী একাকার পথ হইল হারা'- 'মহী' শব্দটির প্রতিশব্দ হল-

i. ফসল।

ii. ধরা।

iii. মাঠ।

iv. জমিদার।

উত্তরঃ ধরা


16.  'ধূলে আচ্ছাদিত হইল'-কারা ধুলোয় আচ্ছাদিত হয়েছিল?

i.  নদী ও পর্বত।

ii.  ঘর ও বাড়ি।

iii. সড়ক পথ।

iv. সবুজ মাঠ-প্রান্তর-গাছপালা।

উত্তরঃ  সবুজ মাঠ-প্রান্তর-গাছপালা


17. 'উলটিয়া পড়ে শস্য প্রজা চমকিত'। কোথাকার প্রজারা চমকে উঠেছিল?

i. গুজরাটের প্রজা।

ii. কলিঙ্গের প্রজা।

iii. বাংলার প্রজা।

iv. বিহারের প্রজা।

উত্তরঃ  কলিঙ্গের প্রজা


18. 'ধূলে আচ্ছাদিত হইল যে ছিল হরিত।'- 'হরিত' শব্দটির অর্থ হল-

i. সবুজ।

ii. মেঘ।

iii. ঘরবাড়ি।

iv. রাজপ্রাসাদ।

উত্তরঃ  সবুজ


19. 'সঘনে চিকুর পড়ে'-'চিকুর' শব্দের অর্থ-

i. বাজ।

ii. বিদ্যুৎ।

iii.বৃষ্টি।

iv.তাল।

উত্তরঃ বিদ্যুৎ


20. 'সঘনে চিকুর পড়ে বেলা-তড়কা বাজ'। এখানে 'বেলা-তড়কা বাজ' উপমাটি যে ছবি স্পষ্ট করে তা হল-

i. জলোচ্ছ্বাসের ছবি।

ii.  ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার ছবি।

iii. মুহুর্মুহু বাজ পড়ার ছবি।

iv. একটানা বৃষ্টির ছবি।

উত্তরঃ মুহুর্মুহু বাজ পড়ার ছবি


21. 'করি-কর সমান বরিষে জলধারা।'-'করি-কর' বলতে বোঝায়-

i. সাপকে।

ii. হাতির শুঁড়কে।

iii. হাতিকে।

iv. হাতির উন্মত্ততাকে।

উত্তরঃ হাতির শুঁড়কে


22.  'পথ হইল হারা।'-পথহারা হওয়ার কারণ-

i. ভূকম্পন।

ii. বজ্রপাত।

iii. বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসঘ।

iv. কোনোটিই নয়।

উত্তরঃ  বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসঘ


23. 'কারো কথা শুনিতে না পায় কোনো জন।'-এমন ঘটার কারণ হল-

i. বৃষ্টিপাত।

ii. তুষারপাত।

iii. লোকজনের আর্তনাদ ।

iv. মেঘের গর্জন।

উত্তরঃ  মেঘের গর্জন


24. 'কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি'- 'সোঙরে শব্দটির অর্থ-

i. বিস্মৃত হয়ে।

ii. স্মরণ করে।

iii. আঘাত পেয়ে।

iv. প্রত্যাখ্যান করে।

উত্তরঃ স্মরণ করে


25. 'আছুক শস্যের কার্য হেজ্যা গেল ঘর।'-'আছুক শস্য' হল-

i. মাঠ থেকে আনা শস্যের গুচ্ছ।

ii. কাঁচা ফসল।

iii. কাটা হয়নি যে ফসল।

iv. পাকা ফসল।

উত্তরঃ মাঠ থেকে আনা শস্যের গুচ্ছ


26. কলিঙ্গের সমস্ত লোক জৈমিনিকে স্বারণ করে, কারণ-

i. তিনি সবাইকে আড়াল করতে পারেন।

ii.তিনি বজ্রপাত নিবারণ করতে পারেন।

iii. তিনি বৃষ্টিপাত রোধ করতে সক্ষম।

iv. তিনি কলিভোর শ্রেষ্ঠ বীর।

উত্তরঃ  তিনি বজ্রপাত নিবারণ করতে পারেন


❐ কমবেশি ১৫টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও:

1.  'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কার লেখা?

উত্তরঃ মধ্যযুগের জনপ্রিয় মঙ্গলকাব্য চণ্ডীমঙ্গলের বিখ্যাত কবি (চৈতন্য-পরবর্তী) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' অংশটির রচয়িতা।


2. কোথায় অন্ধকার হয়ে এল?

 উত্তরঃ  দেবী চণ্ডীর মায়া বলে কলিঙ্গের আকাশ মেঘে ঢেকে যাওয়ায় আকাশ-সহ সমগ্র কলিঙ্গ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।


3. 'দেখিতে না পায় কেহ'- কেউ কী দেখতে পায় না?

উত্তরঃ কলিঙ্গের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় সমগ্র কলিঙ্গ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তাই কলিঙ্গবাসী নিজেদের অঙ্গ পর্যন্ত দেখতে পায় না।


4. 'চারি মেঘ' বলতে কোন্ মেঘকে বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ  ইন্দ্রের চার মেঘকে বোঝাতে 'চারি মেঘ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়। চার মেঘ হল-আবর্ত, সংবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ।


5. কলিঙ্গের প্রজাদের মন বিষাদগ্রস্ত কেন?

উত্তরঃ দেবী চণ্ডীর মায়াবলে কলিঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রলয়ের রূপ ধারণ করায় কলিঙ্গের ধ্বংস আসন্ন এই ভেবে প্রজারা বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে।


6. 'প্রজা দিল রড়'-'রড়' শব্দের অর্থ কী?

উত্তরঃ  'রড়' শব্দটির অর্থ দৌড়ানো বা ছুটে পালানো। এখানে কলিঙ্গের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণ ভয়ে ভীত প্রজাদের ছুটে পালানো বোঝাতে 'রড়' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।


7. প্রজারা 'রড়' দিল কেন?

উত্তরঃ দেবী চণ্ডীর কোপে কলিঙ্গে যেভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় শুরু হয়েছিল, তা দেখে প্রজারা প্রাণ ভয়ে 'রড়' অর্থাৎ দৌড়ে পালিয়েছিল।


8. 'খুলে আচ্ছাদিত হইল যে ছিল হরিত।-বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তরঃ প্রচন্ড ঝড়ে ধুলো দ্বারা কলিঙ্গের প্রকৃতির সবুজ অংশ ঢেকে যাওয়ার কথা বোঝাতে উদ্ধৃতিটি ব্যবহৃত হয়েছে।


9. 'চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ।'-সরলার্থ বুঝিয়ে লেখো।

উত্তরঃ  ইন্দ্রের চার মেঘ-আবর্ত, সংবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণের সাথে একজোড়া করে মোট আটটি দিগজ (গজরাজ) থাকে। এরাই প্রবল জলবর্ষণ করে।


10. প্রজারা চমকে ওঠে কেন?

উত্তরঃ  কৃষকের জীবন ও জীবিকা শস্য অর্থাৎ ফসল। কলিঙ্গে প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে খেতের সেই ফসল উলটে পড়লে প্রজাদের চমকে ওঠাটাই স্বাভাবিক।


11.  'বেঙ্গ-তড়কা-বাজ' কী?

উত্তরঃ  কবিকঙ্কণ কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাঙের মতো লাফিয়ে ওঠার সাথে আকাশে বিদ্যুতের তুলনা প্রসঙ্গে উপমাটি ব্যবহার করেছেন।


12.  'করি-কর সমান বরিষে জলধারা। উপমাটির তাৎপর্য কী তা লেখো?

উত্তরঃ  মুকুন্দরাম কলিঙ্গের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বৃষ্টির তীব্রতা বোঝাতে উপমাটি ব্যবহার করেছেন। যার অর্থ ইন্দ্রের অষ্ট গজ যেন শুঁড় দ্বারা অবিরাম জল বর্ষণ করছে।


13.  'পথ হইল হারা'। পথ হারিয়েছিল কেন?

উত্তরঃ  চণ্ডীর কোপে কলিঙ্গে বৃষ্টির প্রবল জলধারায় পথঘাট সব জলের তলায় চলে যায়। তাই মানুষ পথ হারিয়ে ফেলে।


14. কেউ কারো কথা শুনতে পায় না কেন?

উত্তরঃ  কলিঙ্গে চণ্ডীর কোপে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় চারিদিকে মেঘের অনবরত গর্জনের প্রভাবে কেউ কারো কথা শুনতে পাচ্ছিল না।


15.  'জৈমিনি' কে?

উত্তরঃ  'জৈমিনি' মহাভারত ও পূর্ব মীমাংসা দর্শনশাস্ত্র প্রণেতা মুনি। ইনি ও বৈশম্পায়ন প্রভৃতি অপর চারজন মুনি রজনিবারক বলে প্রসিদ্ধ।


16. জৈমিনিকে কখন কারা স্মরণ করে।

উত্তরঃ  কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে বারবার বাজ পড়ায় আতঙ্কে ভীত কলিঙ্গবাসী বজ্রনিবারক জৈমিনিকে স্মরণ করে।


17. 'হুড় হুড় দুড় দুড় শুনি ঝন ঝন।'- এগুলি কী ধরনের শব্দের উদাহরণ?

উত্তরঃ  হড় হড়, দুড় দুড়, বান ঝন প্রভৃতি শব্দগুলি বাস্তব ধ্বনির অনুকরণে সৃষ্ট, এগুলিকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বা অনুকার বলা হয়।


18.  'না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ।'-। রবির কিরণ দেখতে না পাওয়ার কারণ কী?

উত্তরঃ কলিঙ্গদেশে সাতদিন ধরে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায়, কালো মেঘে সমস্ত আকাশ ঢেকে থাকে। তাই কলিঙ্গবাসী রবির কিরণ দেখতে পায়নি।


19. ঘরের শস্য হেজে পচে নষ্ট হয়েছিল কেন?

উত্তরঃ  একটানা সাতদিন বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গের গৃহস্থ বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তা ছাড়া সূর্যের আলোর অভাবে জড়ো করা  শস্য পচে নষ্ট হয়েছিল।


20.  বৃষ্টির দাপটে ঘরবাড়ির চালের কী পরিণতি হয়েছিল?

উত্তরঃ বৃষ্টির সঙ্গে ভাদ্র মাসের তালের মতো প্রকাণ্ড সব শিল ঘরবাড়ির চাল ভেদ করে মেঝেতে পড়ছিল।


21. 'উলটিয়া পড়ে শস্য'-শস্য কেন উলটিয়ে পড়ে?

উত্তরঃ দেবী চণ্ডীর কোপে কলিঙ্গে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি নেমে আসে। ঝড়ের আঘাতে খেতের দুর্বল কান্ডের সব ফসল উলটিয়ে পড়ে।


22.  চন্ডীর আদেশে হনুমান কী করেছিল?

উত্তরঃ কালকেতুর গুজরাট নগরী পত্তনের জন্য দেবী চণ্ডী হনুমানকে কলিঙ্গের মঠ-অট্টালিকা ভেঙে খান খান করে দিতে আহ্বান জানান।


23.  'উঠে পড়ে ঘরগুলা করে দলমল।-ঘরগুলো 'দলমল' করার কারণ কী?

উত্তরঃ সাতদিনের বর্ষণে কলিঙ্গ শহরে প্রবল বন্যা হয়। পর্বতের মতো উঁচু উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে ঘরগুলো ভীষণভাবে নড়ে ওঠে।


24. কলিঙ্গের নদনদীরা কী করেছিল?

উত্তরঃ  চণ্ডীর আদেশে কলিঙ্গের নদনদীরা তাদের সর্বগ্রাসী ক্ষুধায় সবকিছু ধ্বংস করে প্রবল বেগে ধেয়ে চলেছিল।


25.  'ভনিতা' বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ  মধ্যযুগে গান বা কবিতার শেষে স্ব-নাম বা নিজ নাম ব্যবহার করে দেবদেবীর স্তুতিগান করাকে 'ভনিতা' বলা হয়।


26.  'অম্বিকামঙ্গল' কে গেয়ে শোনান?

উত্তরঃ 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' পাঠ্যাংশের শেষে কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম 'অম্বিকামঙ্গল' গান গেয়ে শোনান।



❐ কমবেশি ৬০ শব্দের মধ্যে উত্তর দাও :


1.  'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় মেঘ কীভাবে গগনমণ্ডল ছেয়ে ফেলেছে তা বলো। ৩

উত্তরঃ মুকুন্দরাম 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় মেঘাচ্ছন্ন আকাশের এক অদ্ভুত ভয়ংকর ছবি তুলে ধরেছেন। প্রথমে 'ঈশান' অর্থাৎ উত্তর-পূর্ব কোণে মেঘ জমে ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকায়। উত্তুরে বাতাসের সংস্পর্শে এসে সেই মেঘ আরও তীব্রতর হয় এবং দুর-দুর করে কেঁপে ওঠে। নিমেষের মধ্যেই সেই মেঘ আকাশ ছেয়ে ফেলে ও অন্ধকার নেমে আসে। সেই অন্ধকারের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, কেউ নিজের শরীর পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিল না।


2. 'বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।- উদ্ধৃতাংশটির অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝিয়ে লেখো। অথবা, 'প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।'- উদ্ধৃতাংশটির অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝিয়ে লেখো।

উত্তরঃ  মুকুন্দরাম তাঁর 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ছবি তুলে ধরেছেন। ঈশান কোণের বজ্রগর্ভমেঘ উত্তুরে বাতাসে তীব্রতা পেয়ে দুর-দুর করে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। অন্ধকারে কেউ কারো নিজের অঙ্গ পর্যন্ত দেখতে পায় না। মেঘ কলিঙ্গের আকাশে গর্জন করতে থাকে। মুশলধারে বৃষ্টি ও সঙ্গে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। এসব দেখে প্রজাগণ প্রলয়ের আশঙ্কায় ঘর ছেড়ে দৌড় দেয়। এই প্রলয় আসলে প্রজাদের দুরবস্থার চিত্র।


3. 'চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ।'- কথাটির তাৎপর্য বুঝিয়ে বলো।

উত্তরঃ  চারি মেঘ' বলতে এক্ষেত্রে দেবরাজ ইন্দ্রের চারপ্রকার মেঘ-আবর্ত, সংবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণের কথা বোঝানো হয়েছে। ইন্দ্রের আটটি সেরা হাতি অর্থাৎ ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন, পুষ্পদণ্ড, সার্বভৌম ও সুপ্রতীক-এদেরকে অষ্ট গজরাজ বলে। দিকরক্ষক এই আটটি হাতি চারপ্রকার প্রবল বর্ষণকারী মেঘের সাহায্যে কলিঙ্গদেশে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে। ফলে সে দেশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে এবং প্রজারাও আতঙ্কিত হয়ে কলিঙ্গ দেশ ছেড়ে পালাতে শুরু করে।


4.  'পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী।'-এখানে 'পরিচ্ছিন্ন' শব্দটির অর্থ কী? কবির বক্তব্যটি বুঝিয়ে বলো।

উত্তরঃ  এক্ষেত্রে 'পরিচ্ছিন্ন' শব্দটি বিভেদ বা পার্থক্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। দেবী চন্ডীর মায়ায় কলিঙ্গের আকাশ এতটাই কালো মেঘে ছেয়ে যায় যে মানুষ তার নিজের অঙ্গ নিজেই দেখতে পায় না। উত্তুরে বাতাসে সেই মেঘ আরও তীব্র হয়। মেঘের গর্জনের সঙ্গে বাজ পড়তে থাকে। এর সঙ্গে টানা সাতদিন মুশলধারে বৃষ্টির জন্য সূর্যের আলোও অদৃশ্য। তাই কলিঙ্গবাসীর কাছে দিন, সন্ধ্যা ও রাত্রি 'পরিচ্ছিন্ন নাহি' অর্থাৎ পার্থক্যহীন।


5.  'কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।-'জৈমিনি' কে? তাঁকে সকল লোকে সোঙরে কেন?

উত্তরঃ 'জৈমিনি' মহাভারত ও পূর্বমীমাংসা দর্শনশাস্ত্র প্রণেতা মুনি। ইনি ও বৈশম্পায়ন প্রভৃতি অপর চারজন মুনি 'বজ্রনিবারক' বলে প্রসিদ্ধ।

 দেবী চন্ডীর নির্দেশে কলিঙ্গে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় শুরু হয়। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, মুশলধারে বৃষ্টির সাথে কলিঙ্গের আকাশে উচ্চনাদী মেঘের গর্জনে প্রজারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। চারি মেঘের গর্জন ও ঘনঘন বাজ পড়ার শব্দে শঙ্কিত কলিঙ্গবাসী এসব থেকে রক্ষা পেতে 'বজ্রনিবারক' হিসেবে খ্যাত জৈমিনি মুনিকে 'সোঙরে' অর্থাৎ স্মরণ করে।


6.  'হুড় হুড় দুড় দুড় শুনি ঝন ঝন।'-উদ্ধৃতাংশটির মধ্যে দিয়ে ঝড়-বৃষ্টির ভয়াবহতার যে ছবি ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় লেখো। 

উত্তরঃ সমগ্র কলিঙ্গের আকাশে ছড়িয়ে ঈশানের কালো মেঘ উত্তুরে বাতাসের সংস্পর্শে এসে আরও বজ্রগর্ভ হয়ে ওঠে। মুশলধারে বৃষ্টি নামে, সঙ্গে প্রবল ঝড় শুরু হয়। ধুলোয় সমস্ত সবুজ বিবর্ণ হয়ে পড়ে, শস্য উলটিয়ে পড়ে। জলে প্লাবিত হয় কলিঙ্গদেশ। বাজের শব্দে কেউ কারো কথা পর্যন্ত শুনতে পায় না। কলিঙ্গের এই মহাপ্রলয়কে কবি হুড়হুড়, দুড়দুড়, ঝনঝন প্রভৃতি ধ্বন্যাত্মক বা অনুকার শব্দ যোগে বাস্তবতা দিতে চেয়েছেন।


7. ' না পাই দেখিতে কেহ রবির কিরণ ' রবির কিরণ দেখতে না পাওয়ার কারণ কি?

উত্তরঃ  কলিঙ্গদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিল। প্রথমে ঈশান কোণে মেঘ সঞ্চারিত হল। তারপর উত্তরের বায়ুতে সে মেঘ ঘন এবং গাঢ়তর হল। মেঘ সমস্ত আকাশ আবৃত করলে পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে এল। দিনরাতের প্রভেদ মুছে গেল। ক্রমাগত সাতদিন ধরে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় চলায় মেঘের ঘন আবরণ ভেদ করে সূর্যের কিরণ পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারল না। তাই কেউ রবির কিরণ দেখতে পেল না।


8.  'গর্ত ছাড়ি ভুজঙ্গ ভাসিয়া বুলে জলে'-'বুলে' কথাটির অর্থ কী? কেন ভুজঙ্গ গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে?

উত্তরঃ  'বুলে' কথাটির অর্থ 'চলে বেড়ায়'। দেবীর নির্দেশে কলিঙ্গ দেশে প্রবল বর্ষণ শুরু হল। নদনদীগুলি ফুলে ফেঁপে উঠে বন্যাও দেখা দিল। ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ল। কলিঙ্গদেশের পথঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ল। জলস্থল সব একাকার হয়ে যাওয়ায় সাপেরা যেসব গর্তে বাস করে সেগুলিও জলমগ্ন হয়ে পড়ল। তখন তারা বাধ্য হয়ে গর্ত ছেড়ে উঠে এসে জলের মধ্যে চলেফিরে বেড়াতে শুরু করল।


9. 'নাহি জানি জলস্থল কলিঙ্গ-মণ্ডলে।-বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? 

উত্তরঃ 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তী প্রলয় ও প্লাবনের দুর্বিপাকে মানুষের অসহায়তার ছবি কবি নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কলিঙ্গ রাজ্যে টানা সাতদিন অবিরাম বর্ষণে সবকিছুই জলমগ্ন। ঝড়, বজ্র ও বৃষ্টির ত্রিবেণি সংগমে দিনরাত্রির তফাত যেমন বোঝা যায় না, তেমনই মাঠ-ঘাট-পথ-প্রান্তর জলপ্লাবনে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। দেবী চণ্ডীর আদেশে প্রলয়ের বিপন্নতায় জলনিমগ্ন কলিঙ্গের এই ভয়াবহ ছবিই আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে ফুটে উঠেছে।


10. 'নিরবধি সাত দিন বৃষ্টি নিরন্তর। 2 সাতদিন বৃষ্টির ফলে কী হয়েছিল? 

উত্তরঃ  দেবী চণ্ডীর আদেশে কলিঙ্গে একটানা সাতদিন বৃষ্টি চলতে থাকে। ক্রমাগত এই বৃষ্টির ফলে একদিকে যেমন প্রজাদের শস্যহানি হয়, অপর দিকে কলিঙ্গের পথঘাট আলাদা করে চেনা যায় না। সাপের গর্তে জল ঢুকে যাওয়ায় পথে-ঘাটে তারা ঘুরে বেড়ায়। অতিরিক্ত বর্ষণে বাড়িঘরের সাথে সাথে সঞ্চিত শস্যেও পচন ধরে। শিলাবৃষ্টিতে ঘরের চাল ও পর্বতের সমান ঢেউয়ে ঘরগুলি যেন দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছিল।


11. 'আছুক শস্যের কার্য হেজ্যা গেল ঘর।'-এমন কথা বলার কারণ কী? 

উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটির সাহায্যে কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় প্রবল বর্ষণে প্রজাদের শস্যাদির ক্ষয়ক্ষতির কথা বুঝিয়েছেন। দেবী চণ্ডীর আদেশে কলিঙ্গে একটানা সাতদিন ঝড়-বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুশলধারে বৃষ্টি চলতে থাকে। জলমগ্ন হয়ে পড়ে গোটা রাজ্য। প্রজাদের ঘরবাড়ির সাথে সাথে মজুত ফসলও পচে নষ্ট হতে শুরু করে। শুধু তাই এ নয় পথ-ঘাট-খেত সবই জলের তলায় চলে যাওয়ায় চাষাবাদও বন্ধ হয়ে পড়ে।


12.  'মেঝ্যাতে পড়য়ে শিল বিদারিয়া চাল।'-প্রসঙ্গ নির্দেশ করে তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো। ৩

উত্তরঃ  মধ্যযুগের অন্যতম বিখ্যাত মঙ্গলকাব্য 'চন্ডীমঙ্গলে'র বিখ্যাত কবি মুকুন্দরাম। তিনি তাঁর 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় বর্ষায় পীড়িত কলিঙ্গের এক বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত রূপের ছবি তুলে ধরেছেন। চন্ডীর আদেশে কলিঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুশলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির সাথে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। ভাদ্রের পাকা তালের মতো বড়ো বড়ো শিলাখন্ড ঘরের চাল ভেদ করে মেঝেতে পড়তে থাকে। এই ভাবেই কবি সুকৌশলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা প্রকাশ করেছেন।


13.  'চণ্ডীর আদেশে ধায় নদনদীগণ।– উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ  কলিঙ্গের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছিল দেবী চণ্ডী পরিকল্পিত। তাঁর আদেশেই মেঘ, বর্ষণ ও বজ্রের সমাবেশ। টানা এক সপ্তাহের অবিরাম ঝড়-বৃষ্টিতে দেবীর নির্দেশেই কলিঙ্গের নদনদীগুলি হয়ে ওঠে উত্তাল ও আগ্রাসী। নদনদীদের পর্বতসমান ঢেউ কলিঙ্গের ঘরবাড়িগুলিকে দুমড়ে মুচড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এদের স্রোতের দুরন্ত আঘাতে মাটির ঘরবাড়ি কাগজের নৌকার মতো ভেসে যেতে থাকে। উদ্ধৃতাংশে কবি প্লাবন ও প্রলয়ের এই ভয়াবহ রূপেরই নিখুঁত ছবি এঁকেছেন।


❐ কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে উত্তর দাও :

1.  'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' কবিতায় মেঘ কীভাবে গগনমণ্ডল ছেয়ে ফেলেছে তা বলো। কলিঙ্গ দেশের ঝড়-বৃষ্টি কলিঙ্গবাসীর জীবনকে কীভাবে বিপন্ন করে তুলেছিল তা বুঝিয়ে বলো। অথবা, 'প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।'-কোন্ পরিস্থিতিতে প্রজাদের এ কথা মনে হয়েছিল? এই পরিস্থিতির বিবরণ কবিতা অনুসরণে নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তরঃ কলিঙ্গের আকাশে ঈশান কোণের পুঞ্জীভূত মেঘ,উত্তুরে বাতাসের সংস্পর্শে এসে তীব্র আকার ধারণ করে মুহূর্তের মধ্যে আকাশকে মেঘে ঢেকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দেয়। সেই গাঢ় অন্ধকারে মানুষ নিজের শরীর পর্যন্ত দেখতে পায় না। এই মেঘ তীব্র গর্জনের সাথে মুশলধারে জলবর্ষণ করতে থাকে। এসব কিছু প্রলয়ের পূর্বাভাস ভেবে কলিঙ্গবাসী বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

দেবী চণ্ডীর মায়ায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি কলিঙ্গবাসীর জীবন বিপন্ন করে তোলে। মেঘের গর্জন ও মুশলধারে বৃষ্টির সাথে তীব্র ঝড়ের হাত থেকে বাঁচতে প্রজারা ঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করে। মাঠের শস্যাদি উলটিয়ে পড়ে। সাতদিন টানা বৃষ্টিতে কলিঙ্গের রাস্তাঘাট আলাদা করে চেনা যায় না। সকাল-সন্ধ্যা-রাত্রিও আলাদা করে বোঝা যায় না। বাজ পড়ার তীব্র শব্দে কেউ কারো কথা শুনতে পায় না। বিপদে পড়ে তারা জৈমিনি মুনিকে স্মরণ করে। বৃষ্টিতে গর্ত থেকে সাপ বেরিয়ে রাস্তায় বেড়ায়। খেতের ও সঞ্চিত ফসলে পচন ধরে। শিলাবৃষ্টিতে ঘরের চাল ভেদ করে ভাদ্রের পাকা তালের মতো বড়ো বড়ো শিলা মেঝেতে পড়ে। চন্ডীর নির্দেশে হনুমান মঠ-অট্টালিকা ভেঙে দেয়। পর্বতপ্রমাণ ঢেউয়ে বাড়িঘরগুলো যেন দুমড়ে মুচড়ে যায়।


2.  'বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।'-'রড়' শব্দের অর্থ কী? কোথাকার প্রজার কথা বলা হয়েছে? বিপাকের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ  উদ্ধৃত অংশটি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' নামক কবিতার অংশবিশেষ। উদ্ধৃতাংশে 'রড়' শব্দটির অর্থ ছুট বা দৌড়।

 এক্ষেত্রে কবি কলিঙ্গদেশের প্রজাদের কথা অর্থাৎ কলিঙ্গবাসীদের কথা তুলে ধরেছেন।, দৈবি কারণে ঘটা এই 'ঝড়-বৃষ্টি'র বর্ণনা কবি অদ্ভুত দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। ঈশান কোণের বিদ্যুৎ চমকিত মেঘ উত্তুরে বাতাসের সংস্পর্শে তীব্রতা পেয়ে সমগ্র কলিঙ্গের প্রকৃতিকে অন্ধকারময় করে তোলে এবং উচ্চনাদী মেঘের গর্জনের সাথে মুশলধারে বৃষ্টিপাত ঘটায়, সঙ্গে প্রচণ্ড ঝড়ও বইতে থাকে। এই ঝড়ের প্রভাবে সমস্ত সবুজ ধুলো ধূসরিত হয় এবং শস্যাদি। উলটিয়ে পড়ে। জলে কলিঙ্গ প্লাবিত হয়ে পথঘাট কিছুই বোঝা যায় না। মেঘের গর্জন ও একটানা বৃষ্টিতে কেউ কারো কথা শুনতে পায় না ও দিনরাতের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পায় না। তাই ভীতসন্ত্রস্ত কলিঙ্গবাসী জৈমিনি মুনিকে স্মরণ করে। নিরন্তর বৃষ্টির প্রভাবে সাপ পর্যন্ত তার গর্ত ছেড়ে জলে ঘুরে বেড়ায় ও চাষির খেতের ফসল এবং সঞ্চিত শস্যে পচন ধরে। পর্বতপ্রমাণ ঢেউগুলো ঘরবাড়িগুলোকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে দেয়।


3. 'চারি মেঘ ও অষ্ট গজরাজের' পরিচয় দাও ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট বর্ষণের বিবরণ দাও। 

উত্তরঃ  মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' নামক কবিতায় দেবী চণ্ডীর কোপে কলিঙ্গে যে মহাপ্রলয়রূপী ঝড়-ঝঞ্ঝার অবতারণা করেছেন, সেখানে 'চারি মেঘ' ও 'অষ্ট গজরাজের' উল্লেখ আছে। এক্ষেত্রে 'চারি মেঘ' বলতে দেবরাজ ইন্দ্রের চারপ্রকার মেঘ- আবর্ত, সংবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ-এর কথা বোঝানো হয়েছে। কথিত আছে এই চার মেঘের সঙ্গে এক জোড়া করে মোট আটটি হাতি বা দিগগজ থাকে। তারা হল-ঐরাবত, পুন্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন, পুষ্পদত্ত, সার্বভৌম ও সুপ্রতীক। হাতি বা ইন্দ্রের এই আট সেরা হাতিকেই 'অষ্ট গজরাজ' বলা হয়।


4. কলিঙ্গের আকাশ ছেয়ে ফেলে এবং মুশলধারে জলবর্ষণ করে।

উত্তরঃ  ঈশান কোণের বজ্রগর্ভ মেঘ উত্তুরে বাতাসের স্পর্শে এসে ■ মনে হয় 'অষ্ট গজরাজ' যেন তাদের শুঁড়ে করে জলধারা ■ বর্ষণ করছে। সেই বর্ষার তীব্রতা এতটাই যে সমগ্র কলিঙ্গ - প্লাবিত হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাট, জলস্থল একাকার হয়ে যায়। - মেঘের গর্জনে পরস্পরের কথা শোনা যায় না। ভীত কলিঙ্গবাসী - জৈমিনি মুনিকে স্মরণ করে। সাতদিন নিরন্তর বৃষ্টিতে ফসল পচে যায়। শিলাবৃষ্টিতে ঘরের চাল ভেদ করে ভাদ্র মাসের তালের মতো শিলাখন্ড পড়ে। বানভাসি কলিঙ্গে পর্বতপ্রমাণ ঢেউ ঘরবাড়িগুলোকে দুমড়ে-মুচড়ে দেয়।


5.  'কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।'- 'সোঙরে' শব্দের অর্থ কী? 'জৈমিনি' কে? সমগ্র কলিঙ্গবাসীর তাকে স্মরণের কারণ কী? 

উত্তরঃ  উদ্ধৃত শব্দটি মুকুন্দরামের 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' নামক কবিতাতে পাই। 'সোঙরে' শব্দটির অর্থ 'স্মরণ করে'।  'জৈমিনি' মহাভারত ও পূর্বমীমাংসা দর্শনশাস্ত্র প্রণেতা মুনি, যিনি 'বজ্রনিবারক' বলে প্রসিদ্ধ।

দেবী চণ্ডীর মায়ায় কলিঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। ঈশান কোণের বজ্রগর্ভ কালো মেঘ মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র কলিঙ্গের আকাশ অন্ধকারে ঢেকে দেয়। এরপর মুশলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। আর উচ্চনাদী মেঘের গর্জন কলিঙ্গের আকাশ যেন বিদীর্ণ করে দেয়। এই গর্জনের সাথে তীব্র বাতাস বইতে লাগল। এতে প্রজারা বিপাকে পড়ে ঘর ছেড়ে দৌড়াতে থাকে। যা কিছু সবুজ তা ধুলোয় আচ্ছাদিত হয়। খেতের শস্য উলটিয়ে পড়ে। চারি দিকে মেঘ থেকে এমন বর্ষণ হয় যা দেখে মনে হয় অষ্ট গজরাজ বুঝি শুঁড়ে করে জল ছিটিয়ে দিচ্ছে। ঘনঘন মেঘের গর্জনে কেউ কারো কথা শুনতে পায় না। ঘনঘন বজ্রপাতে ভীত কলিঙ্গবাসী 'জৈমিনি' মুনিকে স্মরণ করেন। কারণ 'বজ্রনিবারক' এই ঋষিই এই পরিস্থিতি থেকে তাঁদের রক্ষা করতে পারেন।


5.  'নিরবধি সাত দিন বৃষ্টি নিরন্তর।'-'নিরবধি' ও 'নিরন্তর' শব্দ দুটির অর্থ লেখো। সাতদিন নিরন্তর বৃষ্টির ফলে প্রজাদের দুর্দশার যে ছবি কবি তুলে ধরেছেন তার বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি মধ্যযুগের অন্যতম বিখ্যাত কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' নামক কবিতার অংশ বিশেষ। উদ্ধৃতিটির মধ্যকার 'নিরবধি' ও 'নিরন্তর' শব্দ দুটির অর্থ যথাক্রমে 'সীমাহীন' ও 'অবিরাম'। দেবী চণ্ডীর রোষে একটানা সাতদিন সীমাহীন বর্ষণে ও ঝড়ের তাণ্ডবে কলিঙ্গের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মুশলধারে বৃষ্টি আর উচ্চনাদী মেঘের নিরন্তর গর্জনে ভীত হয়ে প্রজারা ঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করে। খেতের ফসল উলটিয়ে পড়ে ও তাতে পচন ধরে; এমনকি সঞ্চিত শস্যও নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। কলিঙ্গ প্লাবিত হয়। জলস্থল, পথঘাট আলাদা করে বোঝা যায় না। জলের সাপ রাস্তায় চরে বেড়ায়। কলিঙ্গের অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশে ঘনঘন বাজ পড়ে। আকাশ এতটাই মেঘাচ্ছন্ন থাকে যে দিনরাতের প্রভেদ বোঝাই যায় না। বাজের শব্দে কেউ কারো কথা শুনতে পায় না। মানুষ এই ঝড়-ঝঞ্ঝা ও মেঘের গর্জনে ভীত হয়ে জৈমিনি মুনিকে স্মরণ করে। বৃষ্টির সঙ্গে আকাশ থেকে তালের মতো বড়ো বড়ো শিলাখন্ড ঘরের চাল ভেদ করে পড়তে থাকে। একটানা ঝড়ে ও পর্বতপ্রমাণ ঢেউয়ে বাড়িঘরগুলি যেন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এককথায় সাতদিনের অবিরাম বৃষ্টিতে প্রজাদের দুর্দশা চরম অবস্থায় পৌঁছায়।


6.  'অম্বিকামঙ্গল গান শ্রীকবিকঙ্কণ।'-'অম্বিকামঙ্গল' এবং তাঁর কবি 'শ্রীকবিকঙ্কণ'-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' অংশে বর্ণিত প্রাকৃতিক দৃশ্যের পরিচয় দাও।

উত্তরঃ  মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত এই মঙ্গলকাব্য প্রকৃতপক্ষে 'চণ্ডীমঙ্গল' নামেই পরিচিত। 'চন্ডীমঙ্গল' কাব্যের কোথাও নাম হিসেবে 'অম্বিকামঙ্গল' শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি। তবে 'চণ্ডীমঙ্গল' গ্রন্থ মধ্যে বহুবার বহু পদের শেষে 'অম্বিকামঙ্গল' শব্দটি মুকুন্দ চক্রবর্তী ব্যবহার করেছেন। সেই কারণে 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য 'অম্বিকামঙ্গল' নামেও পরিচিত। কবি প্রদত্ত বংশতালিকা মতে কয়ড়ি গাঁই-এর ছোটো তরফের সাবর্ণগোত্রীয় ব্রাহ্মণ তপন ওঝার প্রপৌত্র হৃদয় মিশ্রের দুটি সন্তান-কবিচন্দ্র ও মুকুন্দ। মুকুন্দের মায়ের নাম দৈবকী। বাল্যকাল থেকেই কবি মুকুন্দ লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেবতাদের নিত্য সেবা করতেন। তিনি সুকণ্ঠের অধিকারীও ছিলনে। বাল্যকাল থেকেই নিজে সংগীত রচনা করে গাইতেন।

 ঈশান কোণে মেঘ সঞ্চারিত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে কলিঙ্গের আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেল। তারপর শুরু হল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুশলধারে একটানা সাতদিন বৃষ্টি। প্রাকৃতিক এই প্রলয়ে প্রজারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে থাকল। কলিঙ্গে প্লাবন দেখা দিল।

ঘরবাড়ি ও শস্যহানি ঘটল। দিনরাত্রির মধ্যে পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না। দেবীর আদেশে নদনদী যেন সর্বগ্রাসী ক্ষুধা নিয়ে কলিঙ্গের দিকে ধেয়ে এল এবং পর্বতপ্রমাণ ঢেউয়ে ঘরবাড়িগুলো যেন দুমড়ে-মুচড়ে গেল। এই প্রলয়ে শঙ্কিত হয়ে কলিঙ্গবাসী জৈমিনি মুনিকে স্মরণ করেন।


7. 'অম্বিকামঙ্গল গান শ্রীকবিকঙ্কণ।'-ー 'অম্বিকামঙ্গল' কী? অম্বিকামঙ্গলের গানে কবিকঙ্কণ মুকুন্দরামের বাস্তবতাবোধ, জীবনদৃষ্টি এবং কবিপ্রতিভার যে প্রকাশ ঘটেছে, তা কবিতা অনুসরণে লেখো।

উত্তরঃ  মধ্যযুগ হল মঙ্গলকাব্যের যুগ। এই মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মঙ্গলকাব্য হল 'চন্ডীমঙ্গল কাব্য', যার প্রণেতা মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। কবি বহুস্থানে 'চন্ডীমঙ্গল' নামটির পরিবর্তে 'অম্বিকামঙ্গল' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। 'অম্বিকা' হল দেবী 'চণ্ডীর' আর-এক নাম।

 মধ্যযুগের সাহিত্য দেবনির্ভর সাহিত্য। মুকুন্দরামের সাহিত্য প্রতিভা এই দেবনির্ভর পরিমন্ডলেই আবর্তিত হয়েছে। তিনি চন্ডীমঙ্গলে দেবী 'চন্ডীর' ঐশী মহিমা প্রচার করেছেন। মুকুন্দরাম তাঁর ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবনকে অত্যন্ত সুকৌশলে পরোক্ষ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই জন্যই তিনি একটি বিশেষ পরিমণ্ডলের সাহিত্যিক হয়েও শুধুমাত্র বাস্তবতার গুণে চিরকালীন সাহিত্যে স্থান করে নিয়েছেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সাধারণ মানুষের বিপর্যস্ততার ছবি আঁকতে গিয়ে জীবনে খুব কাছ থেকে দেখা অসহায় মানুষগুলোর দুরবস্থার কথাই তিনি তুলে ধরেছেন। কবি ব্যক্তিজীবনে যেভাবে ডিহিদার মামুদ শরিফের অত্যাচারে স্বভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, কলিঙ্গবাসীর মহাপ্রলয়ে ভবন ছেড়ে পালানো সে কথাই মনে করিয়ে দেয়। শুধু মানুষের সাথেই নয়, প্রকৃতির সাথেও লড়াই করে সে যুগের মানুষকে যে বাঁচতে হত সে কথা তিনি ব্যক্ত করেছেন। জৈমিনি মুনিকে স্মরণ করার মধ্যে সংস্কার ও নির্ভয়তার পরিচয় পাওয়া যায়। এককথায় মুকুন্দরাম মধ্যযুগের কবি হয়েও বাস্তবতার রূপকার।

No comments:

Post a Comment