❐ ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো:
1. ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশটির রচয়িতা-
ক. ভবভূতি
খ. বানভট্ট
গ. অদ্বৈত মল্লবর্মন
ঘ. কালিদাস
উত্তরঃ কালিদাস
2. ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশটি তরজমা করেছেন-
ক. সত্যচরণ চক্রবর্তী
খ. সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী
গ. সত্যপ্রিয় চক্রবর্তী
ঘ. সত্যব্রত চক্রবর্তী
উত্তরঃ সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী
3. 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশটি সংকলিত-
ক. রঘুবংশ নাটক থেকে
খ. মৃচ্ছকটিক নাটক থেকে
গ. অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটক থেকে
ঘ. কুমারসম্ভব নাটক থেকে
উত্তরঃ অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটক থেকে
4. শকুন্তলার বিয়ে হয়েছিল-
ক. দুর্বাসা মুনির আশ্রমে
খ. কম্বের আশ্রমে
গ. দুষ্মন্তের রাজধানীতে
ঘ. শচীতীর্থে
উত্তরঃ কম্বের আশ্রমে
5. রাজা দুষ্মন্তর সঙ্গে শকুন্তলার বিবাহ হয়েছিল-
ক. কম্বের অনুপস্থিতিতে তপোবনে
খ.কম্বের উপস্থিতিতে তপোবনে
গ. কম্বের উপস্থিতিতে স্বর্গে
ঘ. কম্বের অনুপস্থিতিতে স্বর্গে
উত্তরঃ কম্বের অনুপস্থিতিতে তপোবনে
6. বিবাহের পর দুষ্মন্ত ফিরে গিয়েছিলেন-
ক. স্বর্গে
খ. তপোবনে
গ. কশ্যপের আশ্রমে
ঘ. রাজধানী হস্তিনাপুরে
উত্তরঃ রাজধানী হস্তিনাপুরে
7. শকুন্তলার প্রকৃত পিতার নাম-
ক. কশ্যপ
খ. বিশ্বামিত্র
গ. কথ
ঘ. দুর্বাসা
উত্তরঃ বিশ্বামিত্র
8. ঋষি কম্ব ছিলেন শকুন্তলার--
ক. পিতা
খ. পালক পিতা
গ. খুল্লতাত
ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তরঃ পালক পিতা
9. ঋষি দুর্বাসার সামনে শকুন্তলা অন্যমনা হয়ে পড়েছিলেন-
ক. বিশ্বামিত্রের চিন্তায়
খ. মেনকার চিন্তায়
গ.দুষ্মন্তের চিন্তায়
ঘ. কম্বের চিন্তায়
উত্তরঃ দুষ্মন্তের চিন্তায়
10.শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন-
ক.দুর্বাসা
খ. বিশ্বামিত্র
গ. অত্রি
ঘ. ঔর্ব
উত্তরঃ দুর্বাসা
11. ঋষি দুর্বাসা নিজের অভিশাপ লঘু করেছিলেন-
ক. শকুন্তলার অনুনয়ে
খ. অনসূয়ার অনুরোধে
গ. প্রিয়ংবদার অনুরোধে
ঘ. মেনকার অনুনয়ে
উত্তরঃ প্রিয়ংবদার অনুরোধে
12. শকুন্তলার বিবাহের সময় মহর্ষি কথ গিয়েছিলেন-
ক. তীর্থে
খ. মৃগয়ায়
গ. শচীতীর্থে
ঘ. তপোবনে
উত্তরঃ তীর্থে
গ. জাহ্নবী তীরে
13. স্নানের পর অঞ্জলি দেওয়ার সময় শকুন্তলার আংটিটি খুলে পড়ে যায়-
ক. শচীতীর্থে
খ. কম্বের তপোবনে
গ. জাহ্নবী তীরে
ঘ. বেনারসে
উত্তরঃ শচীতীর্থে
14. শকুন্তলার আংটিটি খুঁজে পায়-
ক. এক নাপিত
খ. এক বেনে
গ. এক ধীবর
ঘ. এক কৃষক
উত্তরঃ এক ধীবর
15. নগর রক্ষায় নিযুক্ত ব্যক্তিটি হলেন-
ক. সেনাপতি
খ. রাজশ্যালক
গ. সূচক
ঘ. দুষ্মন্ত
উত্তরঃ রাজশ্যালক
16. নাট্য অংশ অভিনয় করছেন-
ক. চারজন
খ. তিনজন
গ. দুইজন
ঘ. পাঁচজন
উত্তরঃ চারজন
17. নাট্যাংশটিতে যে চারজন অভিনয় করেছেন, তাঁরা হলেন-
ক. সূচক, জানুক, রাজশ্যালক, দুর্বাসা
খ. সূচক, ধীবর, দুর্বাসা, জানুক
গ. কন্তু, ধীবর, সূচক, জানুক
ঘ. ধীবর, সূচক, জানুক, রাজশ্যালক
উত্তরঃ ধীবর, সূচক, জানুক, রাজশ্যালক
18. ধীবর যে আংটিটি পেয়েছিলেন, তাতে-
ক. রাজার ছবি ছিল
খ. রানির নাম খোদাই করা ছিল
গ. রাজার নাম খোদাই করা ছিল
ঘ. শকুন্তলার ছবি ছিল
উত্তরঃ রাজার নাম খোদাই করা ছিল
19. 'মণিখচিত' শব্দটির অর্থ হল-
ক. সোনার তৈরি
খ. রূপার তৈরি
গ. মণিমাণিক্য শোভা পাচ্ছে এমন
ঘ. মুক্তো বসানো
উত্তরঃ মণিমাণিক্য শোভা পাচ্ছে এমন
20. ধীবরকে রক্ষীরা ধরে এনেছিল কেন?
ক. চুরি করা আংটি বিক্রি করার চেষ্টা করছিল বলে
খ. আংটি চুরি করেছিল বলে
গ. মাছ চুরি করেছিল বলে
ঘ. এর কোনোটিই নয়
উত্তরঃ চুরি করা আংটি বিক্রি করার চেষ্টা করছিল বলে
21. 'আপনারা শান্ত হন।'-এ কথা বলে রক্ষীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন-
ক. শ্যালক
খ. সুচক
গ. জানুক
ঘ. ধীবর
উত্তরঃ ধীবর
22. প্রথম রক্ষী ধীবরকে বিদ্রূপ করেছিল-
ক. বাটপাড় বলে
খ. সদ ব্রাহ্মণ বলে
গ. সম্বন্ধী বলে
ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তরঃ সদ ব্রাহ্মণ বলে
23. ধীবর কোথায় থাকে?
ক. কম্বের আশ্রমে
খ. শচীতীর্থে
গ. শত্রুাবতারে
ঘ. রাজধানীতে
উত্তরঃ শত্রুাবতারে
24. দ্বিতীয় রক্ষী ধীবরকে সম্বোধন করেছিল-
ক. বাটপাড় বলে
খ. সদ ব্রাহ্মণ বলে
গ. জোচ্চোর বলে
ঘ. গাঁটকাটা বলে
উত্তরঃ সদ ব্রাহ্মণ বলে
25. 'একে পূর্বাপর সব বলতে দাও।'-উক্তিটির বস্তা হলেন-
ক. সূচক
খ. প্রথম রক্ষী
গ. ধীবর
ঘ. রাজশ্যালক
উত্তরঃ রাজশ্যালক
26. 'একে পূর্বাপর সব বলতে দাও।'-'পূর্বাপর' সম্বি বিচ্ছেদটি হল-
ক. পূর্বা + অপর
খ. পূর্ব + উপর
গ. পূর্ব + পর
ঘ. পূর্ব + অপর
উত্তরঃ পূর্ব + অপর
27. ধীবর আংটিটা কোথায় দেখতে পেয়েছিল?
ক. জালের ভিতর
খ. হাটে বিক্রি হচ্ছিল
গ. রুই মাছের পেটে
ঘ. জলের তলায়
উত্তরঃ রুই মাছের পেটে
28. জাল, বড়শি ছাড়াও মাছ ধরার আর একটি যন্ত্র হল-
ক. ছিপ
খ. ছেনি
গ. নৌকা
ঘ. গন্ধক
উত্তরঃ ছিপ
29. ধীবর কীভাবে সংসার চালায়?
ক. নৌকা বেয়ে
খ. মাছ ধরে
গ. মাছ চাষ করে
ঘ. কৃষিকাজ করে
উত্তরঃ মাছ ধরে
30. 'তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি। -এই উক্তিটির বস্তা ছিলেন-
ক. প্রথম রক্ষী
খ. রাজশ্যালক
গ. সূচক
ঘ. মহারাজ
উত্তরঃ রাজশ্যালক
31. 'তোর জীবিকা বেশ পবিত্র'-জীবিকাটি কী?
ক. কাপড় বোনা
খ. মাছ ধরা
গ. চাষ করা
ঘ. জন খাটা
উত্তরঃ চাষ করা
32. 'তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি।'-এই বক্তব্যে বস্তার যে মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, তা হল-
ক. উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি অবিশ্বাস
খ. উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি সম্মান ও মর্যাদাবোধ
গ. উদ্দিষ্ট ব্যক্তির জীবিকার প্রতি অমর্যাদা ও নিজের পদমর্যাদার অহংকার
ঘ. কোনোটিই নয়
উত্তরঃ উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি সম্মান ও মর্যাদাবোধ
33. 'যে বৃত্তি নিয়ে যে মানুষ জন্মেছে, সেই বৃত্তি নিন্দনীয় (ঘৃণ্য) হলেও তা পরিত্যাগ করা উচিত নয়।'-এই বক্তব্যে বস্তার যে মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, তা হল-
ক. নিজের বৃত্তির প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা ও অহংকার
খ. নিজের বৃত্তির প্রতি ঘৃণা
গ. নিরুপায় অবস্থায় নিজের বৃত্তিতে টিকে থাকার চেষ্টা
ঘ. নিজের বৃত্তি সম্পর্কে মিথ্যাচার
উত্তরঃ নিজের বৃত্তির প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা ও অহংকার
34. 'আমি খণ্ড খণ্ড করে কাটলাম,'-বক্তা কী কেটেছিল?
ক. কাতলা মাছ
খ. ভেটকি মাছ
গ. ইলিশ মাছ
ঘ. বুই মাছ
উত্তরঃ বুই মাছ
35. এর গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছে।'-কার কথা বলা হয়েছে?
ক. ধীবর
খ. সূচক
গ. শ্যালক
ঘ.জালুক
উত্তরঃ ধীবর
36. 'এ অবশ্যই গোসাপ-খাওয়া জেলে হবে।'-এমন সিদ্ধান্তের কারণ-
ক. হাতে রক্তের দাগ
খ. গায়ে কাঁচা মাংসের গন্ধ
গ. জালে গোসাপের উপস্থিতি
ঘ. জেলেরা গোসাপ খায়
উত্তরঃ গায়ে কাঁচা মাংসের গন্ধ
37. সুতরাং রাজবাড়িতেই যাই।' রাজবাড়িতে যাবার কারণ কী?
ক. রাজার সঙ্গে দেখা করা
খ. রাজার কাছে নালিশ করা
গ. ধীবরকে রাজার হাতে তুলে দেওয়া
ঘ. আংটির বিষয়ে ধীবর যা বলেছে তার সত্যতা অনুসন্ধান করে দেখা
উত্তরঃ আংটির বিষয়ে ধীবর যা বলেছে তার সত্যতা অনুসন্ধান করে দেখা
❐ কমবেশি ১৫টি শব্দের মধ্যে উত্তর দাও:
1. 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশটি কার লেখা?
উত্তরঃ 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশটি মহাকবি কালিদাসের লেখা।
2. 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশটি মূল কোন্ নাটকের অংশ?
উত্তরঃ 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশটি মহাকবি কালিদাসের লেখা অভিজ্ঞানশকুন্তলম' নাটকের অংশ।
3. শকুন্তলা কে ছিলেন?
উত্তরঃ শকুন্তলা ছিলেন ঋষি বিশ্বামিত্র ও অপ্সরা মেনকার কন্যা।
4. দুম্বান্ত কে ছিলেন?
উত্তরঃ পুরু বংশীয় রাজা যযাতি ও শর্মিষ্ঠার পুত্র ছিলেন দুষ্মন্ত।
5. শকুন্তলার সঙ্গে কার বিয়ে হয়েছিল?
উত্তরঃ শকুন্তলার সঙ্গে রাজা দুষ্মন্তের বিয়ে হয়েছিল।
6. দুষ্মন্ত-শকুন্তলার বিয়ে কোথায় হয়েছিল?
উত্তরঃ ঋষি কম্বের আশ্রমে দুষ্মন্ত-শকুন্তলার বিয়ে হয়েছিল।
7. শকুন্তলাকে বিবাহের পর রাজা দুষ্মন্ত কোথায় গিয়েছিলেন?
উত্তরঃ শকুন্তলাকে গান্ধর্ব মতে বিবাহ করে রাজা দুষ্মন্ত তাঁর রাজধানীতে ফিরে গিয়েছিলেন।
8. ঋষি কম্বের আশ্রমে কথের অনুপস্থিতিতে কোন্ ঋষি এসেছিলেন?
উত্তরঃ ঋষি কম্বের আশ্রমে তাঁর অনুপস্থিতিতে দুর্বাসা ঋষি এসেছিলেন।
9. শকুন্তলাকে কে অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ শকুন্তলাকে ঋষি দুর্বাসা অভিশাপ দিয়েছিলেন।
10. শকুন্তলাকে দুর্বাসা অভিশাপ দিয়েছিলেন কেন?
উত্তরঃ দুষ্মন্তের চিন্তায় অন্যমনস্ক শকুন্তলা দুর্বাসার আগমন সংবাদ বুঝতে না পারায় অপমানিত দুর্বাসা শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন
11. দুর্বাসা মুনি শকুন্তলাকে কী অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ দুর্বাসা শকুন্তলাকে এই বলে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে. যার চিন্তায় সে মগ্ন সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন।
12. শকুন্তলা রাজসভায় অপমানিতা হয়ে ফিরে আসেন কেন?
উত্তরঃ দুর্বাসার শাপে দুষ্মন্ত শকুন্তলার কথা ভুলে গিয়ে তাকে চিনতে না পারায়, অপমানিতা শকুন্তলা তপোবনে ফিরে আসেন।
13. শকুন্তলার সখীর নাম কী ছিল?
উত্তরঃ শকুন্তলার সখীর নাম ছিল প্রিয়ংবদা। এ ছাড়াও শকুন্তলার আর-একজন প্রিয় সঙ্গী ছিলেন, তাঁর নাম অনসূয়া।
14. দুর্বাসা মুনি কীভাবে তাঁর শাপের প্রভাব দূর হবে বলে জানিয়েছিলেন।
উত্তরঃ প্রিয়ংবদার অনুরোধে দুর্বাসা জানিয়েছিলেন, যদি শকুন্তলা কোনো নিদর্শন দেখাতে পারেন, তবেই শাপের প্রভাব দূর হবে।
15. শকুন্তলার সখীরা কাকে ভবিষ্যতের স্মারকচিহ্ন বলে মনে করেছিলেন?
উত্তরঃ রাজা দুষ্মন্ত বিদায়কালে শকুন্তলাকে যে আংটিটি দিয়েছিলেন তাকেই সখীরা ভবিষ্যতের স্মারকচিহ্ন হিসেবে মনে করেছিলেন।
16. তীর্থ থেকে ফিরে এসে মহর্ষি কল্প কী করেছিলেন?
উত্তরঃ তীর্থ থেকে ফিরে এসে মহর্ষি কথ শকুন্তলাকে পতিগৃহে অর্থাৎ রাজা দুষ্মন্তের কাছে পাঠাবার ব্যবস্থা করেছিলেন।
17. দুষ্মন্ত প্রদত্ত আংটিটি শকুন্তলা কীভাবে হারিয়ে ফেলেছিলেন?
উত্তরঃ পতিগৃহে যাবার পথে শচীতীর্থে স্নানের পর অঞ্চলি দিতে গিয়ে শকুন্তলার আংটিটি জলে পড়ে গিয়ে হারিয়ে যায়।
18. পতিগৃহে যাবার পর শকুন্তলাকে দেখে দুষ্মন্তের প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল?
উত্তরঃ পতিগৃহে যাবার পর শকুন্তলাকে দেখে দুষ্মন্ত তাঁকে চিনতে পারেননি।
19. ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশে মূল চরিত্র কয়টি ও কী কী?
উত্তরঃ 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশে মূল চরিত্র চারটি ধীবর, জানুক ও সুচক নামে দুই রক্ষী এবং নগরপাল রাজশ্যালক।
20. রাজা দুষ্মন্তের শ্যালকের কাজ কী ছিল?
উত্তরঃ রাজা দুষ্মন্তের শ্যালকের কাজ ছিল নগররক্ষা করা।
21. ধীবরকে কারা ধরে এনেছিল?
উত্তরঃ ধীবরকে নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক এবং দুইজন রক্ষী সূচক ও জানুক ধরে এনেছিল।
22. ধীবরকে রক্ষীরা ধরে এনেছিল কেন?
উত্তরঃ ধীবরকে দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা আংটি বিক্রি করতে দেখে, চোর ভেবে রক্ষীরা তাকে ধরে এনেছিল।
23. বন্দি ধীবরের কাছে রাজরক্ষীরা কী জানতে চেয়েছিল?
উত্তরঃ বন্দি ধীবরের কাছে রাজরক্ষীদের মূল জিজ্ঞাস্য ছিল, দি সে আংটিটি কীভাবে পেয়েছে।
24. ধীবরের পাওয়া আংটিটি দেখতে কেমন ছিল?
উত্তরঃ ধীবরের পাওয়া আংটিটি মণিমাণিক্য শোভিত ছিল এবং তাতে রাজার নাম খোদাই করা ছিল।
25. ধীবরের প্রতি রাজরক্ষীদের আচরণ কেমন ছিল?
উত্তরঃ রাজরক্ষীরা ধীবরকে আংটি-চোর ভেবে বাটপাড়, গাঁটকাটা ইত্যাদি সম্বোধন করে শাস্তির ভয় দেখিয়ে সত্যটা জানতে চায়।
26. ধীবর কোথায় থাকে?
উত্তরঃ ধীবর শত্রুাবতারে থাকে।
27. 'আমরা কি তোর জাতির কথা জিজ্ঞাসা করেছি?' -এমন বলার কারণ কী?
উত্তরঃ ধীবরের জাত ও জীবিকা নয়, ধীবর কীভাবে আংটি পেয়েছে তা-ই রক্ষীরা জানতে চায়। তাই তারা এমন মন্তব্য করেছিল।
28. ধীবর সংসার চালাত কীভাবে?
উত্তরঃ ধীবর জাতিতে জেলে ছিল। সে জাল, বড়শি ইত্যাদির সাহায্যে মাছ ধরে সংসার চালাত।
29. ধীবরের পেশা সম্পর্কে রাজশ্যালকের মনোভাব কী ছিল?
উত্তরঃ ক্ষমতা ও পদমর্যাদার দম্ভ প্রকাশ করে রাজশ্যালক, ধীবরের পেশাকে 'পবিত্র' বলে বিদ্রূপ করেছিলেন।
30. ধীবরের নিজের বৃত্তি সম্পর্কে মনোভাব কী ছিল?
উত্তরঃ ধীবর মনে করত, মানুষের জন্মগত বৃত্তি নিন্দনীয় হলেও তা ত্যাগ করাটা উচিত নয়।
31. ধীবর আংটিটি কোথায় পেয়েছিল?
উত্তরঃ ধীবর একটি বুইমাছ যখন খণ্ড খণ্ড করে কাটছিল তখন তার পেটের মধ্যে আংটিটি পেয়েছিল।
32. ধীবর যে সৎ ও সাহসী, তা তার কোন্ মন্তব্যের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে?
উত্তরঃ ধীবরের সরল স্বীকারোক্তি, "এখন মারতে হয় মাবুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন" তার সততা ও সাহসিকতার পরিচায়ক।
33. ধীবরকে গোসাপ খাওয়া জেলে বলে রাজশ্যালকের মনে হয়েছিল কেন?
উত্তরঃ ধীবরের গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসায় রাজশ্যালক তাকে গোসাপ খাওয়া জেলে মনে করেছিলেন।
34. শ্যালক রাজবাড়িতে গিয়েছিলেন কেন?
উত্তরঃ আংটিটির বিষয়ে ধীবর যা যা বলেছিল, তা সত্যি কিনা জানতে শ্যালক রাজবাড়িতে গিয়েছিলেন।
35. রাজশ্যালক রাজসমীপে যাওয়ার আগে রক্ষীদের কী নির্দেশ দিয়েছিলেন।
উত্তরঃ সূচককে সদর দরজায় সাবধানে এই চোরকে (ধীবরকে) নিয়ে অপেক্ষা করার নির্দেশ দিয়ে রাজশ্যালক রাজসমীপে গিয়েছিলেন।
36. 'আপনি প্রবেশ করুন।-কে, কোথায় প্রবেশ করবেন?
উত্তরঃ ধীবরের নাট্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিটিতে রাজশ্যালকের মহারাজ দুষ্মন্তের প্রাসাদে প্রবেশ করার কথা বলা হয়েছে।
37. 'মহারাজ এ সংবাদ শুনে খুব খুশি হবেন।'-কোন সংবাদ শুনে খুশি হবেন।
উত্তরঃ রাজা দুষ্মন্ত নিজের নাম খোদিত আংটি প্রাপ্তির কথা শুনে খুশি হবেন, এই ছিল রক্ষীদের অভিমত।
38. 'অবসর বুঝে তবে না রাজার কাছে যাওয়া যায়।- সূচকের এমন কথা বলার কারণ কী ছিল?
উত্তরঃ রাজশ্যালকের বিলম্বে জানুকের অস্থিরতা নিরসনে সূচক জানায়, রাজার কাছে কিছু নিবেদন করতে গেলে সময়-সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হয়।
39. আমার হাত দুটো (এখনই) নিশপিশ করছে।- কেন?
উত্তরঃ মৃত্যুপথযাত্রী ধীবরের উদ্দেশ্যে ফুলের মালা গাঁথবার জন্য সূচকের হাত নিশপিশ করছিল।
40. 'মহারাজের হুকুমনামা হাতে নিয়ে এদিকে আসছে।-কে, কী নিয়ে এসেছিল?
উত্তরঃ রাজশ্যালক দুষ্মন্তের রাজপ্রাসাদ থেকে তাঁর আদেশনামা নিয়ে রক্ষীদের কাছে ফিরে এসেছিলেন।
41. হুকুমনামায় কী থাকতে পারে বলে জানুক আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল?
উত্তরঃ জানুকের অনুমান ছিল, হুকুমনামায় ধীবরকে হত্যা করে কুকুর ও শকুনকে দিয়ে খাওয়ানোর নির্দেশ থাকবে।
42. মুক্তির নির্দেশ ধীবরকে সম্পূর্ণ খুশি করতে পারেনি কেন?
উত্তরঃ আংটি বিক্রির অপরাধে রক্ষীদের হাতে ধরা পড়ায় সেদিন ধীবরের কোনো ব্যাবসা হয়নি। তাই সে অখুশি ছিল।
43. ধীবর সম্পর্কে রাজার আদেশ কী ছিল?
উত্তরঃ রাজা দুষ্মন্ত ধীবরকে আংটির মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ পারিতোষিক হিসেবে দিয়ে তাকে মুক্তির আদেশ দিয়েছিলেন।
44. 'প্রত্ন, অনুগৃহীত হলাম।-বস্তুা কীভাবে অনুগৃহীত হয়েছিলেন?
উত্তরঃ কাঙ্ক্ষিত মুক্তি এবং আংটির সমপরিমাণ মূল্য পারিতোষিক হিসেবে পেয়ে ধীবর অনুগ্রহ প্রকাশ করেছিল।
45. 'এ যে শূল থেকে নামিয়ে একেবারে হাতির গিঠে চড়িয়ে দেওয়া হল।'- কার, কেন এমন মনে হয়েছিল।
উত্তরঃ মৃত্যুর পরিবর্তে মহামূল্যবান পারিতোষিক প্রাপ্তি, এমন অভাবনীয় পট-পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সূচক উদ্ধৃত উপমাটি দিয়েছিল।
46. 'আংটিটা যাজার (খুব) প্রিয় ছিল (-এ কথা জানুকের মনে হয়েছিল কেন?
উত্তরঃ আংটিটি ফিরে পেয়ে রাজা ধীবরকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ পারিতোষিক দেওয়ায় জানুকের এমন মনে হয়েছিল।
❐ কমবেশি ৬০ শব্দের মধ্যে উত্তর দাও :
1. 'যার চিন্তায় সে মগ্ন, সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন।'-বক্তা কে? তাঁর এমন উক্তির কারণ কী?
উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটির বস্তা কালিদাসের 'ধীবর-বৃত্তান্ত' (অনূদিত) নাট্যাংশে শকুন্তলাকে শাপপ্রদানকারী ঋষি দুর্বাসা।
তপোবনে মহর্ষি কম্বের অনুপস্থিতিতে রাজা দুষ্মন্ত কম্বের পালিতা কন্যা শকুন্তলার রূপ-লাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে তাকে গান্ধর্ব মতে বিয়ে করেন, তারপর রাজধানীতে ফিরে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরেও রাজা না ফিরে আসায় শকুন্তলা বিরহাতুর ও আনমনা হয়ে পড়ে। সেই সময় তপোবনে দুর্বাসা মুনি এলে অন্যমনা শকুন্তলা তাকে পাদ্য-অর্ঘ্যসহ আপ্যায়ন না করায় তিনি এই শাপোক্তি করেন।
2. 'কোনো নিদর্শন দেখাতে পারলে তবে শাপের প্রভাব দূর হবে।'-বক্তা কে? কোন্ প্রসঙ্গে এমন কথা বলেছেন?
উত্তরঃ 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশ থেকে গৃহীত উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন মুনি দুর্বাসা। রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে গান্ধর্ব মতে বিবাহ করে নিজের রাজধানীতে চলে যান। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে বিরহাতুর শকুন্তলা কিছুটা আনমনা থাকায় তপোবনে আগত দুর্বাসা মুনিকে যথাযথ মর্যাদা-সহ আপ্যায়ন না করায় তিনি শকুন্তলাকে শাপ দেন, "যার চিন্তায় সে মগ্ন, সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন"।
এই শাপ মুক্তির জন্য সখী প্রিয়ংবদার অনুরোধে ঋষি দুর্বাসা প্রশ্নোদ্ভূত উক্তিটি করেন।
3. 'সখীরা মনে করলেন সেই আংটিই হবে ভবিষ্যতের স্মারক চিহ্ন।'-কোন্ আংটির কথা বলা হয়েছে? সখীদের এমন মনে হওয়ার কারণ কী?
উত্তরঃ রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে গান্ধর্ব মতে বিবাহের পর ফিরে যাবার সময় যে আংটি শকুন্তলাকে পরিয়েছিলেন, এখানে সেই আংটির কথা বলা হয়েছে।
দুষ্মন্তের চিন্তায় মগ্ন শকুন্তলা তপোবনে আসা দুর্বাসাকে যথাযথভাবে আপ্যায়ন না করায় কুপিত দুর্বাসা তাকে শাপ দেন, "যার চিন্তায় সে মগ্ন, সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন।” এই শাপমুক্তির জন্য প্রিয়ংবদার অনুরোধে ঋষি দুর্বাসা বলেন কোনো নিদর্শন দেখালে তবেই তা সম্ভব। তখনই শকুন্তলাকে দেওয়া দুষ্মন্তের সেই আংটির কথা সখীদের মনে পড়ে।
4. 'ঘটনাক্রমে সেই আংটি পেল এক ধীবর '- ধীবরের আংটি প্রাপ্তির ঘটনাটি লেখো। ৩
উত্তরঃ মহর্ষি কথের তপোবনে আগত রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে গান্ধর্ব মতে বিবাহান্তে শকুন্তলার হাতে আংটি পরিয়ে রাজধানীতে ফিরে যান। দীর্ঘ সময় পরেও রাজা ফিরে না আসায় তাঁর চিন্তায় আনমনা শকুন্তলা তপোবনে আগত দুর্বাসাকে আপ্যায়ন না করলে তিনি কুপিত হয়ে অভিশাপ দেন। সেই অভিশাপেই পতিগৃহে যাত্রাকালে শচীতীর্থে স্নানান্তে অঞ্জলি প্রদানের সময় আংটিটি নদীতে পড়ে যায় এবং সেটি একটি মাছ গিলে নেয়। ধীবর সেই মাছের পেট থেকে আংটিটি পায়।
5. তা তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি।'-বক্তা কাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছেন? কথাটি শুনে সেই ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটির বস্তা রাজা দুষ্মন্তের শ্যালক ধীবরকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছিল।শত্রুাবতারের দীন ধীবর মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু মাছের পেট থেকে মণিমুক্তাখচিত রাজ আংটি পেয়ে তা বিক্রি করতে গিয়ে নগররক্ষীর হাতে সে ধরা পড়লে রক্ষীরা তাকে একপ্রকার চোর সাব্যস্ত করে। রাজশ্যালক তার পেশার প্রসঙ্গ তুলে তাকে তাচ্ছিল্য করলে ধীবর বলেন যে বৃত্তি নিয়ে যে জন্মেছে তা নিন্দনীয় হলেও ত্যাগ করা উচিত নয়।
6. 'এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন।'-বক্তা কে? তিনি কোন্ প্রসঙ্গে এমন উক্তি করেছেন?
উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হল কালিদাসের 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাটকের শত্রুাবতারবাসী ধীবর। দরিদ্র ধীবর মাছ ধরে বাজারে তা বিক্রি করে দিন যাপন করত। কিন্তু একদিন মাছের পেট থেকে একটি মণিমুক্তাখচিত আংটি পেয়ে সেটি বিক্রি করতে গেলে নগররক্ষীরা তাকে চোর সাব্যস্ত করে। ধীবর বারবার প্রকৃত সত্যটা বললেও তাদের বিশ্বাস হয় না। তারা ধীবরকে নানানভাবে আক্রমণ করতে থাকেন। বারবার একই কথার পুনরাবৃত্তিতে ধীবর এমন কথা বলে।
7. একে মারার আগে (এর গলায় যে) ফুলের মালা পরানো হবে, তা গাঁথতে আমার হাত দুটো (এখনই) নিশপিশ করছে।'-বক্তা কে? প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বক্তার উক্তির আলোকে তার মনোভাব ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হল 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাটকের প্রথম রক্ষী সূচক। ধীবরকে তারা রাজ আংটি-সহ ধরলে ধীবর প্রকৃত সত্যটা তাদের কাছে বারবার তুলে ধরতে চেয়েছে। তারা কিন্তু ধীবরের কথায় কর্ণপাত করেনি বরং তাকে নানান কটুকথা শুনিয়েছে। রাজশ্যালক ধীবরকে রাজার কাছে উপস্থিত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে চেয়েছেন। কিন্তু হীন মানসিকতার রক্ষী সূচক আগেই বিচারের ফল মৃত্যুদণ্ড ধরে নিয়ে উপরোক্ত মন্তব্যটি করেছে।
8. এ যে শূল থেকে নামিয়ে একেবারে হাতির পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হলো।'-বক্তব্যটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি কালিদাসের 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশ থেকে গৃহীত। অংশটির বস্তা হল রক্ষী সূচক। ধীবরকে রাজ আংটি সমেত ধরার পর থেকেই জানুক, সূচক তাকে নানা বিদ্রুপ করেছে। তারা একপ্রকার নিশ্চিত ছিল যে আংটি চুরির অপবাদে ধীবরের মৃত্যুদণ্ড অবশ্যম্ভাবী। তাই ধীবরকে রাজসকাশে হাজির করার আগেই মৃত্যু পরবর্তীতে মালা পরাবার জন্য তারা উদগ্রীব হয়ে ওঠে। কখনো বা শকুন, কুকুর দিয়ে খাওয়ানোর কথা ভাবে। কিন্তু যখন রাজা আংটির মূল্যের সমান অর্থ দিয়ে ধীবরকে মুক্তি দিল তখন হতাশ সূচক এমন মন্তব্য করেছে। উক্তিটিতে সূচকের নীচ মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
9. স্বভাবত গম্ভীর প্রকৃতির হলেও মুহূর্তের জন্য রাজা বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন।'-বক্তা কে? রাজার আংটি দেখে বিহ্বলতার কারণ কী?
উত্তরঃ কালিদাসের 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাটকে উদ্ধৃতাংশটির বক্তা হলেন রাজশ্যালক।
রাজা দুষ্মন্ত মহর্ষি কম্বের তপোবনে এসে শকুন্তলাকে - গান্ধর্ব মতে বিবাহ করে রাজধানীতে ফিরে যান, স্মারক হিসেবে শকুন্তলাকে দিয়ে যান একটি আংটি। কিন্তু দুর্বাসার শাপে শকুন্তলার সেই আংটি হারিয়ে যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর - শকুন্তলা দুষ্মন্তের রাজদরবারে পৌঁছালে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে প্রত্যাখ্যাত হন। কিন্তু পরে শকুন্তলাকে স্মারক হিসেবে দেওয়া আংটিটি জেলের কাছে দেখে তিনি আত্মগ্লানিতে বিহ্বল হয়ে পড়েন।
10. 'এখন থেকে তুমি আমার একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু হলে।'-বক্তা কে? উক্তিটির আলোকে বক্তার চরিত্রের মূল্যায়ন করো।
উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাটকের অন্যতম চরিত্র রাজশ্যালক।
নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালককে আমরা নাট্যাংশের প্রথম দিকে দেখেছি দাম্ভিক রূপে। তিনি রক্ষীদের সঙ্গে ধীবরকে বিদ্রূপ করেছেন, ধীবরের পেশাকে ঘৃণা করেছেন। তবে তাকে আবার আমরা দায়িত্বশীল রাজকর্মচারী হিসেবেও দেখেছি। ধীবরকে তিনি - আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দিয়েছেন, প্রকৃত বিচার যাতে ধীবর পায় তারও ব্যবস্থা করেছেন। রাজার বিচারে নির্দোষ প্রমাণিত ধীবরকে প্রাপ্ত পারিতোষিকের অর্ধেক রক্ষীদের দান করতে দেখে শ্যালকের মনে ধীবর সম্পর্কে গড়ে ওঠা ইতিবাচক ধারণা থেকেই শ্যালকের এমন উক্তি।
❐ কমবেশি ১৫০ শব্দের মধ্যে উত্তর দাও :
1. স্বামীর চিন্তায় শকুন্তলা অন্যমনা হয়ে পড়েছিলেন কেন? দুর্বাসা মুনির অভিশাপের ফলে কী হয়েছিল?
উত্তরঃ মহর্ষি কম্বের অনুপস্থিতিতে রাজা দুষ্মন্ত মৃগয়া করতে। কম্বের তপোবনে এসে শকুন্তলার রূপ-লাবণ্যে মুগ্ধ হন। গান্ধর্ব মতে শকুন্তলা ও দুষ্মন্তের বিবাহ সম্পন্ন হয়। এরপর রাজা দুষ্মন্ত রাজধানীতে ফিরে যান। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হবার পরেও শকুন্তলার খোঁজ নিতে রাজা নিজে তো নয়ই কোনো দূতও তপোবনের পথ অনুসরণ করেনি। প্রিয়জনের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির কথা ভাবতে ভাবতে বিরহাতুর শকুন্তলা আনমনা হয়ে পড়েছিলেন।
বিরহাতুর শকুন্তলা যখন দুষ্মন্তের চিন্তায় মগ্ন তখন দুর্বাসার আগমন ঘটে। শকুন্তলা তা টের না পেলে দুর্বাসার রোষানলে পড়ে। তাঁর কথায়, যার চিন্তায় মগ্ন হয়ে শকুন্তলা তাকে অগ্রাহ্য করেছে সেই-ই একদিন শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন। সখী প্রিয়ংবদার অনুরোধে ঋষির কথা-শকুন্তলা যদি কোনো নিদর্শন দেখায় তবেই তার শাপমুক্তি ঘটবে। অবশেষে পতিগৃহে যাত্রাকালে শচীতীর্থে স্নানের পর অঞ্জলি দেবার সময় রাজার দেওয়া স্মারক আংটিটি হাত থেকে খুলে নদীতে পড়ে যায়। দুর্বাসার অভিশাপ অনুযায়ী দুষ্মন্ত তাকে চিনতে পারলেন না। এভাবেই শকুন্তলার জীবনে দুর্বাসার অভিশাপ ফলেছিল।
2. দুর্বাসা মুনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন কেন? তিনি শকুন্তলাকে কী অভিশাপ দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ তপোবনে মহর্ষি কম্বের অনুপস্থিতিতে হস্তিনাপুরের রাজা দুষ্মন্ত মৃগয়া করতে করতে ক্লান্ত হয়ে সেখানে উপস্থিত হন। আশ্রমকন্যা শকুন্তলার রূপ-লাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে রাজা দুষ্মন্ত অবশেষে গান্ধর্ব মতে তাকে বিবাহ করেন। বিবাহের পর রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে পুনরায় ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফিরে যান হস্তিনাপুরের রাজধানীতে। এইভাবে কয়েকদিন কাটার পর শকুন্তলার মন অদর্শনজনিত কারণে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কিন্তু দুষ্মন্ত তো নয়ই, এমনকি দীর্ঘ সময় পরেও সামান্য কোনো দূতও তপোবনে শকুন্তলার খোঁজ নিতে এল না। স্বভাবতই বিরহাতুর শকুন্তলার মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে এবং তিনি অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। ঠিক সেই সময় দুর্বাসা মুনি সেখানে পদার্পণ করেন, রা কিন্তু শকুন্তলা আনমনা থাকার জন্য দুর্বাসা মুনিকে যথাযথ আপ্যায়ন করতে পারেননি। এতেই দুর্বাসা মুনি অপমানিত হন এবং শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন।
অপমানিত ও ক্ষিপ্ত দুর্বাসা মুনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন যে, শকুন্তলা যার চিন্তায় মগ্ন হয়ে তাকে উপেক্ষা করছেন সেই তিনিই শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন আর চিনতে পারবেন না।
3. ধীবর আংটিটি কীভাবে পেয়েছিল তার পূর্বসূত্রটি আলোচনা করো।
উত্তরঃ 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাটকে রাজা দুষ্মন্তের নামাঙ্কিত আংটিটি ধীবরের হাতে পৌঁছানোর ব্যাপারটি নাটকীয়তা পূর্ণ। তপোবনে কম্বের অনুপস্থিতিতে রাজা দুষ্মন্ত সেখানে আসেন এবং শকুন্তলাকে দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে যান। অবশেষে দুষ্মন্ত গান্ধর্ব মতে শকুন্তলাকে বিবাহ করে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজধানীতে ফিরে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরেও রাজা বা তাঁর কোনো দূতও তপোবনে শকুন্তলার খোঁজ নিতে এল না।
বিরহাতুর শকুন্তলা যখন অন্যমনা তখন সেখানে দুর্বাসা মুনি আসেন। শকুন্তলা টের না পেয়ে তাঁকে যথাযথ আপ্যায়ন না করলে দুর্বাসা রুষ্ট হয়ে অভিশাপ দেন শকুন্তলাকে-যার ই চিন্তায় মগ্ন, সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন বলে। শেষে -প্রিয়ংবদার অনুরোধে ঋষি বলেন যে, কোনো নিদর্শন দেখাতে পারলে তবে শাপমুক্তি ঘটবে। দুষ্মন্তের শকুন্তলাকে দেওয়া আংটিকেই সখীরা ভবিষ্যতের স্মারকচিহ্ন মনে করলেন। তীর্থ ফেরত মহর্ষি শকুন্তলাকে পতিগৃহে পাঠালে রাজা দুষ্মন্ত তাকে চিনতে পারেন না। এদিকে শচীতীর্থে স্নানান্তে অঞ্জলি দেবার সময় শকুন্তলার হাত থেকে সেই স্মারক আংটিটি নদীতে পড়ে গেলে সেটি একটি মাছ গিলে নেয়। ধীবরের হাতে ধরা পড়া সেই মাছটি কাটতে গিয়ে সেটি ধীবরের নজরে আসে। এভাবেই ধীবরের হাতে আংটিটি এসেছিল।
4. ধীবরের প্রতি রাজশ্যালক এবং দুইজন রক্ষীর মনোভাব কেমন ছিল তা নাট্যাংশটি অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ ধীবরের প্রতি রাজশ্যালক ও দুই রক্ষীর মনোভাব ছিল অত্যন্ত রূঢ় ও অমানবিক। তবে রাজশ্যালক নাটকের শেষে তার ব্যবহারের জন্য নিজেকে শুধরে নিয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ধীবরের পেশা ও জাত নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য রাজশ্যালক কিছুটা হলেও অনুতপ্ত ছিল।
নাটকের শুরুতেই দেখা যায় নগর রক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক ও তার দুই রক্ষী সূচক ও জানুক ধীবরকে হাত বাঁধা অবস্থায় রাজবাড়ির দিকে নিয়ে আসছে। তার অপরাধ ছিল সে রাজার নামাঙ্কিত মণিমুক্তাখচিত আংটি প্রকাশ্যে বিক্রি করছিল। তাই তাকে চোর সন্দেহ করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ধীবর আংটি প্রাপ্তির প্রকৃত কারণ বারবার তাদের বলতে চাইলেও তারা ধীবরের প্র কথায় কর্ণপাত না করে তাকে বাটপাড়, গাঁটকাটা ইত্যাদি বলে প অপমান করে। অভিযুক্ত ধীবরের বিচারপর্ব শেষ হবার আগেই রক্ষীরা তাকে শাস্তির ভয় দেখিয়েছে, মৃত্যুর আগেই তার মৃতদেহে মা মালা পরাবার মতো হীন মন্তব্যও করেছে। রাজার কাছে বিচারে অ নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে ধীবর পুরস্কৃত হলে তারা ঈর্ষান্বিত হয়। আবার উদার ধীবর সেই অর্থের অর্ধেক তাদের দিলে তা গ্রহণ করতেও তারা পিছপা হয়নি। এসব থেকে সূচক ও জানুককে হীন চরিত্রের বলেই মনে হয়।
5. 'কীভাবে এই আংটি আমার কাছে এল-তা বললাম'-বস্তার আংটি প্রাপ্তির ঘটনাটি উল্লেখ করো। নাট্যাংশের কোন্ ঘটনা প্রমাণ করে আংটিটা রাজার (খুব) প্রিয় ছিল?
উত্তরঃ উদ্ধৃত অংশটি কালিদাসের 'ধীবর-বৃত্তান্ত' (বাংলায় অনূদিত) নাট্যাংশের অংশবিশেষ। বক্তা হলেন নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র শত্রুাবতারের বাসিন্দা একজন সাধারণ ধীবর। মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সে তার প্রতিদিনকার জীবিকা নির্বাহ করে। স্বাভাবিক ভাবেই তার কাছে মণিমুক্তাখচিত রাজার নামাঙ্কিত আংটি থাকাটা একটু অস্বাভাবিক। দুষ্মন্ত শকুন্তলার হাতে যে আংটি পরিয়ে এসেছিলেন তা পতিগৃহে যাত্রাকালে স্নানান্তে শচীতীর্থে অঞ্জলি প্রদানের সময় তার হাত থেকে নদীতে পড়ে যায় এবং সেটি একটি মাছ গিলে নেয়। সেই মাছটি ধীবরের হাতে ধরা পড়ে। বিক্রির জন্য ধীবর মাছটি কাটার সময় মণিমুক্তাখচিত আংটিটি দেখতে পায়, এভাবেই ধীবর আংটিটি পায়।
ধীবরের কাছে রাজ আংটি দেখে নগররক্ষী রাজশ্যালক ও তার দুই অনুচর সূচক ও জানুক ধীবরকে বন্দি করে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে রাজার কাছে উপস্থিত করে কঠিন শাস্তির আশায়। কিন্তু ধীবর রাজার কাছে নির্দোষ প্রমাণিত হয় এবং প্রচুর পারিতোষিক পায়। আংটিটা যে রাজার খুব প্রিয় এটাই তার প্রামাণ্য। তা ছাড়া শ্যালকের কথায় আংটিটা রাজার কাছে কতটা মূল্যবান ছিল সেটা বিচার্য নয় তবে আংটিটা দেখে তাঁর বিহ্বলতায় মনে হচ্ছিল যে মহারাজের কোনো প্রিয়জনের কথা মনে পড়েছে।
6. 'এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় - ছেড়ে দিন।'-বক্তা কে? এই উক্তির আলোকে বস্তার চরিত্র এ আলোচনা করো।
উত্তরঃ উদ্ধৃত উক্তিটি আমাদের পাঠ্য মহাকবি কালিদাসের (অনুবাদিত) 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র ধীবরের। 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাট্যাংশের কাহিনি তাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। একজন সাধারণ দীন ধীবরের মধ্যে যে সততা, স্পষ্টবাদিতা, নিজের পেশার প্রতি শ্রদ্ধা, শাস্ত্রজ্ঞান, পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সর্বোপরি কৃতজ্ঞতা ও উদার মনের পরিচয় পাওয়া যায় তা এককথায় অনবদ্য।
➤ সততা ও স্পষ্টবাদিতা: নাটকের প্রথম থেকেই ধীবরের মধ্যে সততা ও স্পষ্টবাদিতা লক্ষ করা গেছে। আংটি চুরির অপবাদে অভিযুক্ত হয়ে প্রথম থেকেই সে সত্য কথা বলতে চাইলেও রক্ষীরা তার কথায় কর্ণপাত করেনি। উপরন্তু তাকে বাটপাড়, গাঁটকাটা ইত্যাদি ইতর শব্দ শুনতে হয়েছে। আংটি পাবার কথা অকপটে স্বীকার করে বলেছে-"এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন"।
▶ শাস্ত্রজ্ঞান ও পেশার প্রতি শ্রদ্ধা: রাজশ্যালক তার পেশা ও জাত নিয়ে কটুক্তি করলে তার উত্তরে ধীবরের শাস্ত্রজ্ঞান ও পেশার প্রতি শ্রদ্ধা লক্ষ করা যায়।
▶পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা: রাজদরবার থেকে ছাড়া পেয়ে তার উক্তি, “প্রভু, আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে”?
এ থেকে তার পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতাই লক্ষ করা যায়।
▶কৃতজ্ঞতা ও উদারমনস্কতা: পারিতোষিক পেয়ে যেভাবে বিদ্রূপকারী রাজশ্যালককে প্রণাম করে ও অপর দুজন রক্ষীকে তার অর্ধেক দান করেছে, তাতে তার কৃতজ্ঞ ও উদারচিত্তেরই পরিচয় মেলে।
7. আংটিটি পেয়ে রাজা দুষ্মন্ত ধীবরকে প্রচুর পারিতোষিক দিয়েছিলেন কেন তা নাট্যাংশটি অবলম্বনে বুঝিয়ে বলো।
উত্তরঃ আমাদের পাঠ্য কালিদাসের 'অভিজ্ঞানশকুন্তলম' নাটকের ষষ্ঠ অঙ্ক থেকে গৃহীত 'ধীবর-বৃত্তান্ত' (অনূদিত) নাটকের যে অংশটুকুর উপর আলোকপাত করা হয়েছে তা হল ধীবরের আংটি প্রাপ্তি, তাকে রাজদরবারে সাজার জন্য প্রেরণ এবং সাজার বদলে তার পুরস্কার প্রাপ্তি। তবে এসব কিছুর পিছনে অলক্ষে কাজ করেছে দুর্বাসার অভিশাপ। দুষ্মন্ত মহর্ষি কম্বের অনুপস্থিতিতে তার তপোবনে শকুন্তলার রূপ-লাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে গান্ধর্ব মতে তাকে বিবাহ করেন। দুষ্মন্ত ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শকুন্তলার হাতে একটি আংটি পরিয়ে বিদায় নেন। দুষ্মন্তের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে বিরহাতুর ও অন্যমনস্ক শকুন্তলা তপোবনে আগত দুর্বাসাকে যথাযথ আপ্যায়ন না করলে ক্রুদ্ধ দুর্বাসা শকুন্তলাকে শাপ দেন, ফলস্বরূপ দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে ভুলে যান। শকুন্তলা পতিগৃহে যাত্রাকালে শচীতীর্থে দুষ্মন্তের স্মারক আংটিটি হারিয়ে ফেলেন, যেটি নদীতে পড়ে এক মাছের উদরস্থ হয়। ধীবর সেই আংটি উদ্ধার করে এবং নগররক্ষী ও তার অনুচরদের হাতে ধরা পড়ে। বিচারের জন্য রাজসভায় এসে রাজশ্যালক সেই আংটিটি দেখালে দুষ্মন্তের স্মৃতিতে শকুন্তলা বেঁচে ওঠেন। শকুন্তলার প্রতি অবিচারের জন্য তিনি অনুতপ্ত হন। বেদনায়, আনন্দে আপ্লুত হয়ে আংটি ফিরে পেতে সাহায্যকারী ধীবরকে - প্রচুর পারিতোষিক দেন।
8. 'এখন থেকে তুমি আমার একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু হলে।-কারা পরস্পরের বন্ধু হয়েছে? এমন বন্ধুত্বের কারণ কী?
উত্তরঃ কালিদাসের 'ধীবর-বৃত্তান্ত' নাটকে নগররক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক ও চোর সন্দেহে ধৃত শত্রুাবতারের ধীবর পরস্পর পরস্পরের বন্ধু হয়েছে।
শক্রাবতারের অত্যন্ত সাধারণ ব্যক্তি এই ধীবর। মাছ ধরে, মাছ বিক্রি করেই তার সংসার চলে। ঘটনাক্রমে একদিন মাছের পেট থেকে সে রাজার নাম খোদিত একটি মূল্যবান আংটি পেয়ে সেটি বিক্রির চেষ্টা করে। ধীবরের হাতে রাজ আংটি দেখে নগররক্ষী রাজশ্যালক ও তার দুই অনুচরের তাকে চোর সন্দেহ হয়। তারা ধীবরের কোনো কথা না শুনে তাকে বিদ্রুপ বাণে বিদ্ধ করতে করতে বিচারের জন্য রাজদরবারে নিয়ে আসেন। ওই আংটি দেখে রাজা দুষ্মন্তের কোনো প্রিয়জনের কথা মনে পড়েছে বলে রাজশ্যালকের মনে হয়। তার এই যুক্তি আরও দৃঢ় হয় মুহূর্তের জন্য আংটির দিকে তাকিয়ে রাজার বিহ্বলতা ও ধীবরকে পারিতোষিক দান দেখে। প্রবল রাজশক্তির কাছে ধীবরের ভেঙে না পড়ে সত্যকে তুলে ধরা, আত্মমর্যাদা বোধ, নিজের পেশার প্রতি মমতা, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তাকে মুগ্ধ করে। আবার প্রাপ্ত পারিতোষিকের অর্ধেক অন্যদের দিয়ে দেওয়াতে রাজশ্যালক বুঝেছিলেন ধীবর নিম্নবর্গের হলেও একজন উদার মানসিকতার সৎ নাগরিক। তাই রাজশ্যালক তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
No comments:
Post a Comment